আজ , , ,

জনবল সংকট ধুঁকছে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক ঘাটতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখান থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
২০১৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও বাস্তবে বাড়েনি জনবল। কাগজে কলমে হাসপাতাল বড় হলেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গোসাইরহাটের হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও খাদ্য বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ওয়ার্ড ও করিডোরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো চিহ্ন নেই। বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন উপচে পড়েছে, জমে রয়েছে নোংরা পানি। তীব্র দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড, ল্যাব ও জরুরি বিভাগের ওয়াশরুমগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। একাধিক ওয়াশরুমের দরজা ভাঙা, কোথাও পানি সরবরাহ নেই। এতে বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও সে অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে গড়ে ৭০ জনের মতো রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ সার্জারি, নাক-কান-গলা (ইএনটি) ও চক্ষু বিভাগের কনসালটেন্ট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ১৭টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। ফলে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে রয়েছে-এসএসিএমও, প্যারামেডিক, এমটি (রেডিওলজি), এক্স-রে টেকনিশিয়ান, এমটি (ল্যাব), ফার্মাসিস্ট/ঔষুধ বিভাগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও জুনিয়র কনসালটেন্ট। এসব পদ শূন্য থাকায় জরুরি বিভাগ, ল্যাব পরীক্ষা, এক্স-রে সেবা, ঔষুধ বিতরণ এবং নারী ও শিশু রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। জীবাণুমুক্তকরণে ব্যবহৃত অটোক্লেভ যন্ত্র নষ্ট থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা কার্যকর নয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ভেতরের নোংরা পরিবেশে ভর্তি হলে কষ্টে থাকতে হয়। ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।
এক শিশু রোগীর মা অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডের ওয়াশরুমের দরজা ভাঙা, পানি নেই। এই অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া খুব কষ্টকর। স্বাভাবিকভাবে আমাদের শিশুর সুস্থ হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে প্রতিনিয়ত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটের মধ্যেই আমরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এটি পুরোনো সমস্যা। পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সেবার মান অনেক উন্নত করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা এবং হাসপাতালের বেহাল অবস্থার কারণে রোগীদের প্রধান আশ্রয়স্থল এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় জনবল পূরণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।

Share this news as a Photo Card


১০ অক্টোবর ২০২৬

হিন্দু-মুসলিম উভয়ই আমারপরিবার: হুইপ অপু

www.hongkar.com |
dailyhongkar