শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হয় রুচি সুপার ও রাজ আইসক্রীম। এসব আইসক্রীম বিক্রি হয় সখিপুর, ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যার চরাঞ্চলে। শিশু খাদ্যের তালিকায় জনপ্রিয় এই আইসক্রীম খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুরা। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মেলে এসব আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর।
উপজেলার সৈয়দবস্তা এলাকায় গিয়ে দেখা মিলে রাজ আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর। এই ফ্যাক্টরীর উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে রাজ ক্ষীর মালাই, স্পেশাল অরেঞ্জ ললি, স্পেশাল ম্যাঙ্গো আইস বার সহ বাহারী নামের আইসক্রীম। এই ফ্যাক্টরীর আইসক্রীম উৎপাদনে ম্যাঙ্গো বা অরেঞ্জের ছিটেফোটা উপাদানও পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় চিনির পরিবর্তে ঘনচিনি ও ম্যাঙ্গো বা অরেঞ্জ রং। যার কোন বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) অনুমোদন নাই। নাই তৈরীর ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ। অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়েই উৎপাদিত হয় এই সকল ফ্যাক্টরীতে আইসক্রীম।
ফ্যাক্টরীতে থাকা ইসমাইল মোড়লের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার ছেলে মাসুম মোড়ল এই ব্যবসা পরিচালনা করেন। আইক্রীম তৈরীতে ঘণচিনি ও আইপি নামের ক্যামিকেল ব্যবহার করতে দেখেন। অরেঞ্জ ললিতে অরেঞ্জের ব্যবহার বা ম্যাঙ্গো আইস বারে আমের ব্যবহার করতে তিনি দেখেননি। তবে আইসক্রীমের মোরকে ব্যাচ নং, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও ওজনের সামনে খালি জায়গা থাকলেও তাতে কোন কিছু লেখা হয়নি। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য মাসুম মোড়লের মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।
একই এলাকায় দেখা মেলে রুচি সুপার আইসক্রীম ফ্যাক্টরী নামে আরেকটি আইসক্রীম ফ্যাক্টরীর। সেখানেও রুচি সুপার ক্ষীর মালাই, অরেঞ্জ ললি সহ বাহারী আইসক্রীমের নাম দেখা যায়। তবে আইসক্রীম ফ্যাক্টরীতে থাকা মিস্ত্রী জানায় হাবিব শিকদার ফ্যাক্টরীর মালিক। পরবর্তীতে হাবিব শিকদারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তিনি জানায়, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তিনি এই ফ্যাক্টরীতে আইসক্রীম উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। তার ফ্যাক্টরীতে কোন ক্যামিস্ট নাই, নাই বিএসটিআই অনুমোদন।
কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, নামসর্বস্ব এই শিশু খাদ্যগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন দোকানে বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে ছাত্ররা তা কিনে খেয়ে অসুস্থ হয়। এই সকল খাদ্য উৎপাদনের প্রতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারী থাকা এবং মান নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, শিশু খাদ্য উৎপাদনে যথাযথ নিয়ম ও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাক প্রয়োজন। যদি কেউ নিয়ম ও আইন উপেক্ষা করে শিশু খাদ্য উৎপাদন করেন তাহলে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।