আজ , , ,

মোংলায় চা বিক্রেতা আসমা হত্যার রহস্য উন্মোচন, আটক ২

মোংলায় নিখোঁজের ৬০ দিন পর নাকফুল ও প্যান্টের নকশার সূত্র ধরে এক নারীর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে নিহত নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার লাউডোব এলাকার মৃত নুরুল শেখের ছেলে ইকরামুল শেখ (৪০) এবং ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দেলুটিয়া এলাকার মৃত মোজাফফর হাওলাদারের ছেলে মো. মীর আলী (৪৮)। মীর আলী বর্তমানে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছাড়াবাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আসমা বেগম। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ছয় দিন পর, ২০ আগস্ট রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজিবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত ছবি দেখে তদন্ত শুরু করে মোংলা থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশ আসমা বেগমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহের পরনে থাকা প্যান্টের ছবি দেখায়। ছবিটি দেখে তদন্তকারীরা লক্ষ করেন, প্যান্টটির রং ও নকশার সঙ্গে আসমা বেগমের বাসায় থাকা আরেকটি প্যান্টের হুবহু মিল রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, প্যান্ট দুটি একই থান কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এ ছাড়া মরদেহের নাকে থাকা নাকফুল দেখে স্বজনেরা নিশ্চিত হন, সেটি আসমা বেগমের মরদেহ।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ইকরামুল শেখ ও মো. মীর আলীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইকরামুল শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইকরামুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে নিহত আসমা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
নিহত আসমা বেগমের বয়স ছিল ৩৯ বছর। তিনি মোংলা উপজেলার মালগাজী এলাকার আব্দুল জবেদ আলীর মেয়ে। মোংলা বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন তিনি। তাঁর ১৭ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৯ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চায়ের দোকান থেকেই ইকরামুল শেখ ও মীর আলীর সঙ্গে আসমা বেগমের পরিচয় হয়। তাঁরা ওই দোকানের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। আসমা বেগমের প্রতি তাঁদের খারাপ দৃষ্টি ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানান মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম।

Share this news as a Photo Card


৩১ জানুয়ারি ২০২৬

ডামুড্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী সভা

www.hongkar.com |
dailyhongkar