আজ , , ,

ভেদরগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের রিপোর্ট দিয়েছেন। খাদ্য বান্ধব কমিটির মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে ও ভুক্তভোগীরা জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ডিএমখালী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে ভোক্তাদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এ চাল বিতরণে ৬ নং ওয়ার্ডের ডিলার আরাফাত এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ইয়াছির আরাফাত এর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড দেখিয়ে চাল উত্তোলন করে বাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠেছে। যার কার্ড নং ৪৯০ ও ৭২৪ । এ ছাড়াও কয়েকজন ভোক্তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যাদের কার্ড নং ৩৯৪, ৫৩০, ৬৭২, ৭৩৩, ১৮, ৪০৫, ৭২৪। এ সকল কার্ডের চাল উত্তোলন করে ডিলার আত্নসাৎ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় আকিল মালিক নামে এক ব্যক্তির। তার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন ৪৯০ ও ৬৪৬ নং কার্ড ধারী কখনো চাল উত্তোলন করেনি। তাদের নামে বিতরণ দেখানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৫১৯, ৫৩২ নং কার্ডধারীকে চাল দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কার্ডধারী। এছাড়াও মাঝে মধ্যে ৭৩৩ নং কার্ডধারীকে চাল না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে কার্ড বানিয়ে চাল দেয়ার কথা বলে ৩০০ করে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেছেন ৫৩০, ৩৯২, ৩৯৪, ৭৩৩, ৬৭২, ৪৯৫ নং কার্ডধারীগণ। এ ছাড়া একই পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে কার্ড দিয়ে একজনকে চাল দেয়া হয় অন্যজনের চাল ডিলার রেখে বাজারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যার কার্ড নং ৪৮৫ ও ৫৭১। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আকিল মালিক ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন। খাদ্য কর্মকর্তা নিজে তদন্ত না করে পরিদর্শক মিনার হোসেন কে দিয়ে তদন্ত করান। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরেও ডিলার বহাল তবিয়তে আছে। এখনো তার নামের অনুকুলে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী আকিল মালিক (তিতুমীর) বলেন, ডিলার ইয়াছির আরাফাত ভূয়া কার্ড বানিয়ে চাল উত্তোলন করছে। মৃত ব্যক্তির নাম দিয়ে চাল বিতরণ এবং কার্ডধারীদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেক কার্ডধারীকে চাল না দিয়ে নিজে এ সকল কার্ডধারীর চাল বাজারে বিক্রি করছেন। আমি অভিযোগ করার পর তদন্ত হয়েছে।
ডিলার ইয়াছির আরাফাত বলেন, অভিযোগকারীর সাথে আমার পূর্বের দ্বন্দ্ব আছে। সে কারণে অভিযোগ করেছে। তবে মৃত ব্যক্তির কার্ড এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তিনি যে ২০১৭ সালে মারা গেছেন এটা আমি জানতাম না। একটা কার্ডধারীর থেকে একজন ৩০০ টাকা নিয়েছে গাড়ি ভাড়া বাবদ। সেটা আমি নিজে নেইনি। কার্ডধারীদের মাপে কম দেয়ার বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কাউকে মারধর করিনি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ বলেন, তদন্ত করে রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তদন্ত কালে কিছু কিছু বিষয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। খুব শিঘ্রই খাদ্য বান্ধব কমিটির মিটিং করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Share this news as a Photo Card


১২ অক্টোবর ২০২৬

শরীয়তপুরে ফ্যামিলি কার্ড সংগ্রহসংক্রান্ত প্রেস কনফারেন্স

www.hongkar.com |
dailyhongkar