শরীয়তপুর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা ১৯৯৮ সনে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানাবিধ সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। ২০২৬ সনের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একজন কৃতকার্য না হওয়ায় হতাশায় শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী। সময় অতিবাহিতের সাথে সাথে সমস্যা মেঘ আরো ঘণভূত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের আকাশে। জোর করে দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত সুপারের অবহেলা ও গাফিলতি থেকে উত্তরণ না হলে সমাধানের কোন দিক খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে দাবী করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগণ ও এলাকাবাসী।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সনে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সনে মাসিক বেতন আদেশ (এমপিও) পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের তালিকাভূক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। তখনই প্রতিষ্ঠাকালীন সুপার মোর্শেদ আলম কে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্বে বসেন সহকারী শিক্ষিকা তহিরুন নেছা। সেই থেকেই উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি তার অযোগ্যতা বুঝতে পেরে ২০২৪ সনের ২৯ আগস্ট একটি পতদ্যাগপত্র জমা দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে সুপারের পদে প্রতিষ্ঠাকালীন সুপার মোর্শেদ আলম ফিরে আসে। কিছু দিনের ব্যবধানে পুনরায় পদত্যাগ করা সহ-সুপার তহিরুন নেছার ভারপ্রাপ্ত সুপারের পদ দখল করে আছেন। তিনি কার্যদিবসের বেশীর ভাগ সময় ছুটি বিহীন ঢাকায় অবস্থান করেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে। শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে দাবী করেন ভারপ্রাপ্ত সুপার তহিরুন নেছা। তবে শিক্ষার মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ভাঙ্গা রেকর্ড চালু করে দেন।
বিদ্যালয় সূত্র আরো জানায়, ভারপ্রাপ্ত সুপার, সহকারী শিক্ষক ও কর্মচারী সহ মোট ১৪ জন কর্মরত রয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানে। ২০২৬ সনে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ফলাফল ঘোষণার পরে শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় দেখা যায় শরীয়তপুর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার নাম।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, অযোগ্য-মানহীন সুপার ও শিক্ষক মন্ডলীর বেশীর ভাগই পাঠদানের অনুপযোগী। তার ওপর নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে চলছে প্রতিষ্ঠান। এখন যে সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন তার নিয়োগ ছিল সহকারী মৌলভী পদে। প্রতিষ্ঠাকালীন সুপার মোর্শেদ আলমের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে দ্রুত সময়ে সহকারী সুপারের দায়িত্ব পায় তহিরুন নেছা। এমন অদক্ষ্য ও অযোগ্য সুপার দায়িত্বে থাকলে মেয়েদের বিয়ের জন্য শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া আর কোন কিছুই ওই প্রতিষ্ঠান থেকে আশা করা যায় না।
এই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার তহিরুন নেছা বলেন, তার প্রতিষ্ঠান খুব সুন্দর ভাবে চলছে। যে সকল শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল তাদের বেশীর ভাগই বিবাহিত। তাই তারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেনি। আগামীতে যারা পরীক্ষা দিবেন তাদের প্রস্তুত করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাছাড়া শিক্ষক কর্মচারী হাজিরা খাতা ঠিকঠাকই রয়েছে। তবে শ্রেণি কক্ষ সংকট থাকলেও তা মানিয়ে নিয়ে নিয়মিতি পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই জানায়, বিগত সময় ভারপ্রাপ্ত সুপার তহিরুন নেছা প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ও ব্যাংক ডকুমেন্টসহ ৬ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। তখনকার বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীরা। সেই বেতন পাইয়ে দেয়ার জন্য দফায় দফায় শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও ১০ বছরে তারও কোন ফলাফল দেখাতে পারেননি তিনি। এখন প্রতি সপ্তাহে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এই দায়িত্বরত সুপার। চলতি সপ্তাহের ৩০ অক্টোবর থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি অনুপস্থিত থেকে ৩ সেপ্টেম্বর এসে হাজিরা খাতায় প্রতিদিনের সাক্ষর করেছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনন্দময় ভৌমিক বলেন, শতভাগ অকৃতকার্যের তালিকায় থাকা শরীয়তপুর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপারকে কারণ দর্শানো হয়। তিনি যে জবাব দিয়েছেন তা সন্তোষজনক না। তাই বিষয়টি লিখিত ভাবে অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।