২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এই দিনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আত্মত্যাগ ও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দানকারী শহীদ ইমাম হোসেন আকাশে দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত।
এ উপলক্ষে ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন শহীদ ইমামের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে.এম রাফসান রাব্বি, সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএমএ হামিদ, ভেদরগঞ্জ উপজেলা বিএনিপ’র আহবায়ক হাবিবুর রহমান রতন তালুকদার, আহবায়ক কমিটির সদস্য আবুল হাসেম ঢালী, সখিপুর থানা যুবদল সভাপতি মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা, শহীদ ইমাম হোসেন আকাশের মা বেবী বেগমসহ জুলাই যুদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আকাশের মতো শত শত প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের ইতিহাসে সূচিত হয় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী ইমাম হোসেন আকাশ, জালাল উদ্দিনসহ সকল শহীদ, আহত ও সংগ্রামী মানুষের অপরিসীম ত্যাগের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি ইউনিয়নের বেবী বেগমের একমাত্র ছেলে ইমাম হোসেন আকাশ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গুলিতে শহীদ হন।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার মিরপুরে বন্ধুদের সাথে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে।
পিতার আদর ভালোবাসা বঞ্চিত মায়ের একমাত্র সন্তান আকাশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ দেখার স্বপ্ন নিয়ে দেশমুক্ত করে মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন তার স্বপ্নই রয়ে যায়।
দেশমুক্ত হবার এক দিন পুর্বেই ৪ আগস্ট দুপুরে গুলিতে আহত হয় আকাশ। মুগদা হাসপাতালে পাওয়া যায় তার লাশ। পরে মরদেহ এনে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি ইউনিয়নের মাদবর কান্দিতে নানা বাড়ির কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
শহীদ আকাশের মা বেবী বেগম বলেন, আমি ভাইদের কাছে ঢাকায় থাকি। সরকারের কোন ভাতা এখনো পাইনা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আমাকে কোন মাসে ১০ হাজার আবার কোন মাসে ৫ হাজার টাকা দেয়। তা দিয়েই আমার বর্তমানে দিন চলে।