শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যার পর ওই এলাকার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেপটিক ট্যাংকির একটি অংশ ভেঙে যায়। ককটেল বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরনের ঘটনায় বিভিন্ন সময় দেশব্যাপি আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারী ককটেল তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরনে তিন ব্যক্তির মৃত্যুর হয়। প্রায়ই ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটার কারনে বিলাশপুরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পরেছে। গত দুই মাসে বিলাসপুর ও তার আশপাশে অন্তত ৮টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে ৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
জাজিরা থানা সূত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, বিলাশপুর ইউনিয়নটি পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা একটি এলাকা। একদিকে নড়িয়া উপজেলা, আরেক দিকে সদর উপজেলা। ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিলাশপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সব সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিলাশপুরের বিভিন্ন পক্ষের লোকজন ককটেল তৈরি করে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন।
গত ৮ জানুয়ারি বিলাশপুরের মুলাই বেপারী কান্দি এলাকায় ককটেল তৈরি করার সময় বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর বিভিন্ন সময় পুলিশ ও যৌথ বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেসব স্থান থেকে ককটেল ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
সোমবার সন্ধ্যার দিকে চেরাগ আলী ব্যাপারী কান্দি এলাকার প্রবাসী আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক এর উপরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তখন বাড়িটিতে কোন লোকজন ছিল না। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানায়। প্রথম দিকে পুলিশ বিস্ফোরণ ঘটার স্থানটির সন্ধান করতে পারেনি। দুই ঘন্টা চেষ্টা করে বিস্ফোরণ স্থলের সন্ধান পায় পুলিশ। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে খবর পাই বিলাসপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের সন্ধান পাচ্ছিল না। পরে আমিসহ আরো বেশ কিছু পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল খুঁজে পাই। দুর্ঘটনাস্থল দেখে মনে হয়েছে অনেকগুলো ককটেল একসাথে বিস্ফোরিত হয়েছে। আমরা কিছু আলামত উদ্ধার করেছি। অনেকদিন থেকেই বিলাসপুরে ককটেল তৈরি করে বিক্রি করছে একটি চক্র। বিভিন্ন সময়ে এখানে মজুদ করা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত দেখে মনে হয়েছে সেগুলো আগে থেকেই এখানে সংরক্ষণ করা ছিল। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কারা ওই স্থানে ককটেল গুলো মজুদ করেছিল এবং এর উৎস কি তা দ্রুত বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় মামলা হবে।