আজ , , ,

ভেদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার ২৭ মাসেও অপসারণ হয়নি

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পুরাতন ভবন কন্ডেমশন কমিটির সিদ্ধান্তে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এর পরে ২৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই ভবন অপসারণ না হওয়ার চরম আতংকে কাটে রোগী ও চিকিৎসকদের সময়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলা ও দ্বিতীয় তলায় ছাদের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল। প্রায়ই কক্ষের ছাদসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা ও সুরকি খসে পড়ছে। রোগীরা এসব জায়গা এড়িয়ে চলছেন। যখন বাধ্য হয়ে ওই স্থান ব্যবহার করছেন, তখন তাড়াহুড়ো করছেন। শুধু রোগীরাই নন, আতঙ্কিত হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীর স্বজনেরাও।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাযায়, ১৯৭২ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় দ্বিতল ভবন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৩১ শয্যার লোকবল দিয়েই এখানে চলছে স্বাস্থ্যসেবা দান। ভেদরগঞ্জ ও সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত এই উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৩৫ জন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসকের ৪৫টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ২০ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা ১৭৩ জন, বিপরীতে আছেন ১১৩ জন। এখানে কোন ওয়ার্ডবয় নেই, একজনের পদায়ন হলেও তিনি সংযুক্তিতে রয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালে। রয়েছে নার্সের সংকটও। এমনকি অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। হাসপাতালের এ্যাম্বলেন্স, এক্স-রে মেশিনসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতালের কর্মচারী সুমন মিয়া বলেন, রোগী ও আমাদের আতঙ্কের কারণ একটাই। প্রতিনিয়ত হাসপাতাল ভবনের ছাদ ও বিভিন্ন দেয়াল খসে পরছে। গত ২২ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অফিসকক্ষের ভেতরে ধসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। এ সময় কর্তব্যরত একজন নার্স অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বেশ কিছু সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে।
উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের মির্জাপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দিপালী রানী (৩৮) বলেন, গতকাল আমার সামনেই ছাদের অংশ ভেঙ্গে পরেছে। আমরা ভয়ে দৌড়িয়ে বাহির হলেও আমাদের চেয়ে বেশী অসুস্থ্যরা আতংকে চিৎকার শুরু করে দেয়।
উপজেলার সখিপুর থানার বেপারিকান্দি এলাকার বাসিন্দা রুনিয়া আক্তার (৪৫) বলেন, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি চার দিন ধরে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে ভয়ে ভয়ে মেয়ের ঔষুধ আনার জন্য বাইরে যাওয়ার সময় মনে হয় এই বুঝি ছাদের ফাটলের স্থান ভেঙ্গে পরবে।
রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ভাটিতা গ্রামে আবুল হোসেন ঢালী (৩৮) বলেন, হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য। কিন্তু এই হাসপাতালে এসে থাকি আতঙ্কে। কোন সময় যেন মাথার উপরছাদ ভেঙ্গে পড়ে। হাসপাতালের অনেক জায়গায় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ছে।
ভেদরগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ইউসুব আলী বলেন, হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য এক্সরে মেশিন নাই, নাই আরো অনেক গুরুত্বপুর্ণ যন্ত্রপাতি। এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জটিল রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়।
ভেদরগঞ্জ নারায়নপুর এলাকার শিমূল তালুকদার বলেন, এখানে জ্বরের চিকিৎসা নিতে এলেও ভয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসক কম থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে থাকতে হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও জনবল আছে ৩১ শয্যার। তাই সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করে বর্তমান স্বাস্থ্যবান্দব সরকারের প্রদত্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ভবনের কমিটির মাধ্যমে আরো ২ বছরের বেশী সময় পূর্বে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। তার পরেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চরম ঝুঁকি ও আতংক নিয়ে কাজ করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এ হাসপাতালেরর ভবনটি পুরাতন ভবন কনডেমশন কমিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত দেন। এর পরে নানান কারণে ভবন অপসারণ হয়নি। এদিকে শরীয়তপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে আমরা বিষয়টি তার নজরে আনি। এর পরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবন অপসারণ ব্যয় ও মালামালের মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সদস্যরা হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্ত মাদারীপুর অঞ্চল, একই অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত শরীয়তপুর ও উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি ভেদরগঞ্জ। তারা প্রতিবেন দিলে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে। তবে এ সময় নতুন ওপিটি ভবনে গাদাগাদি করে আমরা সেবা কার্যক্রম চলমান রাখতে চাই। যতদ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ হবে আমরা তত দ্রুত সেবার মানবাড়াতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

Share this news as a Photo Card


২১ মে ২০২৬

গোসাইরহাটে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা

www.hongkar.com |
dailyhongkar