শিশু ও তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন এবং পরিবেশগত সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শরীয়তপুরে জেলা পর্যায়ে অংশীজনের সঙ্গে সিএলআইএমএটিই প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম। এতে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম।
শিশু ও তরুণদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সহনশীলতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এসডিএস এবং অর্থায়ন করছে বার্নফন্ডেন ইনসামলিংসস্টিফটেলসে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) প্রত্যয় হাসানের সঞ্চালনায় সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক বাসুদেব চক্রবর্তী।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙন, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাই তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজনমূলক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। শিশু ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।
বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতি রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে এ ধরণের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় রাবেয়া বেগম বলেন, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে শরীয়তপুর একটি হলেও উপকূলীয় জেলা হিসেবে সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার পায় না। আগামী তিন বছর প্রকল্পের আওতায় জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় কাজ করা হবে। বিশেষ করে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের রূঢ় আচরণের কারণে সময়ে-অসময়ে নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ। সব ধরণের ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সভায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) শরীয়তপুর প্রতিনিধি মজিবুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের কারণে এ জেলার অনেক মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাইলে আমাদের এলাকা ছেড়ে যেতে পারব না। তাই বসতবাড়ি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “আপনারা যখন কোনো কাজ করবেন, জেলা প্রশাসনকে জানাবেন। তাহলে জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তর আপনাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে পারবে। শরীয়তপুরে এসডিএস দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে। এটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।