আজ , , ,

সখিপুরে খাল পুন:খননে কৃষিসহ ব্যবসা বাণিজ্য সচল হয়েছে

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর খাল। সরকারের খাল পুন:খনন কর্মসূচির আওতায় সখিপুর বাজার থেকে চরকুমারিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুন:খননের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন মৃতপ্রায় খালটিতে আবারও পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে সখিপুর বাজার, মোল্লার বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই খাল দিয়ে নৌকা, ট্রলার এমনকি স্টিমারও চলাচল করত। প্রায় এক থেকে দেড় যুগ আগে খালের ওপর দুটি স্লুইজ গেট নির্মাণ করা হয়। সে সময় স্থানীয় কৃষকদের জানানো হয়েছিল, শুকনো মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব স্লুইজগেট ব্যবহার হবে। কিন্তু নির্মাণের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হতে থাকে এবং বিভিন্ন স্থানে দখলের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে।
পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে সখিপুর বাজার থেকে ডিএমখালী ইউনিয়নের কাশেমপুর চরকুমারিয়া মোল্লার বাজার পর্যন্ত খাল পুন:খননের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল ৪০ ফুট প্রস্থ ও ১২ ফুট গভীর করে খনন করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো খাল পানিতে পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর খালে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানায়, ছোটবেলায় আমরা এই খালে সারাদিন নৌকা, ট্রলার ও স্টিমার চলাচল করতে দেখেছি। সখিপুর বাজার ও মোল্লার বাজারে এই খালপথে পণ্য আনা-নেওয়া হতো। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট থাকায় কৃষিকাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এমনকি পাট পচানোর জন্যও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত না। এখন আবার খালে পানি দেখে সেই পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, খাল পুন:খননে আমরা আনন্দিত। তবে খালের মধ্যে থাকা পুরোনো দুটি স্লুইজ গেট অপসারণ করা জরুরি। এগুলো রেখে দিলে ভবিষ্যতে আবারও পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমুদুর রহমান সম্রাট মোল্ল্যা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি সচল না থাকায় প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি সংসদ সদস্য মো. শফিকুর রহমান কিরণের নজরে আনার পর তিনি পুন:খননের উদ্যোগ নেন। এজন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। খালটি নতুন রূপে ফিরে আসায় এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘদিন পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষ নানা ধরণের ভোগান্তিতে ছিলেন। পুন:খননের মাধ্যমে খালটি আবার সচল হয়েছে। বর্তমানে খালে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে, যা এলাকার কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। খালের মধ্যে থাকা দুটি স্লুইজ গেট বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) নির্মাণ করেছিল। যা অকেজো হয়ে গিয়েছিলো।

Share this news as a Photo Card


০১ অক্টোবর ২০২৬

নড়িয়ায় পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ফাটল

www.hongkar.com |
dailyhongkar