আব্দুর রব বেপারী (৫০) শরীয়তপুর পৌরসভার চরপালং গ্রামের মৃত শফিজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে। পিতার মৃত্যু পরবর্তী ৩০ বছর ধরে ৫ ভাই-বোন ও মাকে নিয়ে যৌথ সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ও বিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন। বিয়ের বয়স পাড় করে পরিবারের সদস্যদের ভালো রাখতে ২০০৮ সালে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চলে যায় আব্দুর রব। প্রবাসে রোজগারকৃত সকল টাকা ও স্বর্ণালংকার দেশে মা ও ভাইদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে দাবী করেন আব্দুর রব। দীর্ঘ ১৪ বছর পরে তিনি প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেখেন তার পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার তারা আত্মসাৎ করেছেন। দেশে ফেরার পরে তার অর্জিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের দাবী করলেই মা ও ভাইদের হাতে বারবার নির্যাতিত হয়েছেন আব্দুর রব। তালা মারা হয়েছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত ঘরে। ১৪ বছর পরে দেশে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবী করায় হয়েছেন মামলার আসামীও। তিনি তার কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।
আব্দুর রাজ্জাক বেপারী তার দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন, ১৪ বছর প্রবাস জীবন সমাপ্ত করে তিনি ২ বছর পূর্বে অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন। নিজের পাঠানো ৮৪ লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকারের হিসাব চাইতে গিয়ে মা-ভাইদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার সহ মামলার আসামীও হয়েছেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ভাবে শালিশ দরবার করেও কোন সমাধান পায়নি আব্দুর রব।
আব্দুর রব আরো জানায়, তার মা খতেজা বেগম, ভাই মিয়াচান বেপারী ও লিটন বেপারী একজোট হয়ে তাকে নির্যাতন করে। এই বিষয়ে তিনি স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য শালিশীর আয়োজন করেন। শালিশীতে বড় ভাই কেলাশ বেপারী ও বোন মর্জিনা বেগম ন্যায় কথা বলায় তাদেরকেও মিথ্যা মামলায় আসামী করেছে। এখন তিনি মা ও ছোট ভাই দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আইনী সহায়তা চেয়েছেন। তিনি তার রোজগারের টাকা ও স্বর্ণ ফিরে পেলে বিয়ে করবেন এবং অবশিষ্ট জীবন সুখ-শান্তিতে কাটাবেন।