লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা। লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্বাধীনতা ও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করতে হবে। কোন পরিস্থিতিতেই আর মুক্তিযুদ্ধকে ও কোন মুক্তিযোদ্ধকে বির্তকিত করতে দেয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করার সময় এমন মন্তব্য করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নড়িয়ার মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের হলরুমে শিক্ষার্থীথীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম আলো বন্ধু সভার সদস্যদের আয়োজনে ওই অলিম্পিয়াডে ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতে ৫ জন বিজয়ীকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তি বিভিন্ন বই পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির হলরুমে মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়ীদের হাতে পুরুস্কার তুলে দেন শরীয়তপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড কাইন্সিলের যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধ আব্দুল মোতালেব মাদবর, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, প্রবীন সাংবাদিক বাসসের জেলা প্রতিনিধি মজিবুর রহমান, মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন ও প্রথম আলোর শরীয়তপুর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ।
মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজয়ী হয় মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বর্ষন বিশ^াস, হামীম হাওলাদার, আরিয়ান ইসলাম, রাকিবুল ইসলাম।
পুরুস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধ আব্দুল মোতালেব মাদবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি জীবন্ত ইতহাস। বিভিন্ন সময় এই ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে। তা করতে দেয়া হবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের পথ হারালে চলবে না। মুক্তিযুদ্ধে যার যতটুকু অবদান তা অস্বীকার করাও সঠিক নয়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে দিতে হবে।
প্রবীন সাংবাদিক মুজিবুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লোমহর্ষক স্মৃতি আজও আমাদের তারা করে। ১৯৭১ সালে দেশের আপামর জনতার সাথে ছাত্ররাও মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল। স্বাধীনতা রক্ষা করতে ছাত্ররা সবসময় ঝাপিয়ে পরেছে। দেশ স্বাধীন করতে আমরা যেমন ঝাপিয়ে পরেছি, তেমনি দেশ রক্ষা করতে তরুনদের এগিয়ে আসতে হবে।
মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন বলেন, আমরা আজ বসেছি মুক্তিযুদ্ধকে জানতে। আমরা কতটুকু যেনেছি, মন থেকে জেনেছি তা বুঝার জন্য প্রথম আলো একটি অসাধারণ আয়োজন করেছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করার জন্য এ আয়োজনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।