পদ্মা মেঘনা বিধৌত শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার (আংশিক) ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-২ আসন।
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৫ জন, নারী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন রয়েছে। এসব ভোটাররা সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ১৩৬টি কেন্দ্রের ৮২৫টি কক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২১ জানুয়ারী প্রতিক বরাদ্দের পরে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ৭টি রাজনৈতিক দল ও ২ স্বতন্ত্রসহ মোট ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত রয়েছেন ।
আসনটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন মাহমুদ হোসেন, জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জসিম উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে আখতারুজ্জামান সম্রাট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীক নিয়ে মাহমুদুল হাছান, জনতার দলের কলম প্রতীক নিয়ে পারভেজ মোশাররফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইমরান হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে আলমগীর হোসেন ও সোফা প্রতীক নিয়ে মো. নাসির বন্দুকছি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
২২ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থীগণ ও তাদের সমর্থকরা ভোটাদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সবাই বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলতে দেখা গেছে।
নড়িয়া উপজেলার প্রবীন শিক্ষক আলী আজম বলেন, নড়িয়া উপজেলায় আওয়ামীলীগের ভোটার বেশী, অপর দিকে সখিপুরে বিএনপির ভোটার বেশী। প্রার্থী যারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা দুজনই সখিপুরের সন্তান। তাই নড়িয়ার ভোটের উপর নির্ধারিত হবে জয় পরাজয়।
নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নে পোড়াগাছা গ্রামের আমিরজা বিবি (৬৫) বলেন, আমরা সারা জীবন আওয়ামীলীগে ভোট দিছি। তার পরেও আমার বৃদ্ধ বয়সে উপজেলায় খেয়া নৌকায় পার হতে হয়। এবার ভোট দেয়ার আগে দেখে শুনে ভালো মানুষকে ভোট দিবো। মানুষ ভালো না হলে ভোট দিবো না।
সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ মাঝি বলেন, এবার আমরা সৎ যোগ্য ও পরীক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দিবো।
সখিপুর থানা বিএনপির আহবায়ক এস এস এ হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন এ আসনে আওয়ামীলী দখল করে ছিলো। মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। তার পরেও মাঠে বিএনপিও তার কাছাকাছি ছিলো এবং আজো আছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরণ দীর্ঘ ৪০ বছর এ জনপদে রাজনীতি করছে। জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারী তাদের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য ধানের শীষের প্রার্থী কিরণ ভাইকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।
শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনার তদারকির দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর কেএম মকবুল হোসাইন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনের মানুষ বিভিন্ন দলের সরকার দেখেছে। ভোট যাদের দিয়েছে তারা নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন বা কাঙ্খিত উন্নয়ন করেনি। তাইতো আজও এলাকাবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত। এবার নড়িয়া সখিপুরের মানুষ সকল বঞ্চনার গ্লানি মুছে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য ১০ দল সমর্থিত জামায়াত ইসলামির প্রার্থীকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।