শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাট হয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কোয়ারাগ খাল পুনরুদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাসের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ ও পুনরুদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থিত কোয়ারাগ খালটি ওই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রধান মাধ্যম। খালটির ওপর নির্ভরশীল রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। তবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখল করে ভরাট করে রাখায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের কৃষিজমি গুলো কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ধরে পানি নিষ্কাশনের অভাবে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল তাদের। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটালেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছিল না।
পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমি অফিস থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভোজেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে খালটির সীমানা নির্ধারণ করেন এবং দখলকারীদের খালের দখলকৃত জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু নোটিশ উপেক্ষা করে দখলদাররা খালটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয় এবং কোয়ারাগ খাল পুনরুদ্ধারে নির্বাহী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় খালের ভরাট অংশ কেটে পুনরায় পানি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়। একই সঙ্গে খাল দখলকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ পুনরায় খাল দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোজেশ্বর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন খান, নড়িয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাইনউদ্দিন হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, সরকারি খাল, নদী ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। কোয়ারাগ খালটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশনের পথ হওয়ায় জনস্বার্থে এটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা। তারা বলেন, খালটি দখলমুক্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমবে এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক হবে। এতে করে এলাকার কৃষিনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।