শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে রাতের আধারে ককটেল বিস্ফোরণে পরিত্যক্ত বসতঘর উড়ে গিয়ে সোহান বেপারী নামের একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরো তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত সংগোপনে পারিবারিকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে নবীন সরদার (২৮) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর দুই জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামও পুরুষ শুন্য হয়েগেছে। কিছু কিছু নারিদের দেখা মিললেও আতংকে তারাও কিছুই বলছেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে এলাকাবাসীর। ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী দেখতে পায় বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের সাগর বেপারীর একটি নবনির্মিত ঘর ককটেল বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। ঘরের চাল ও বেড়া উড়ে গিয়ে আশপাশে পরে থাকতে দেখতে পায়। ঘটনার বিহলতা জন্ম দেয় একটু দূরে গিয়ে পাশের রসুন খেতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত সোহান বেপারীর মরদেহ দেখে। সোহান বেপারী একই এলাকার দেলোয়ার বেপারীর ছেলে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এছাড়াও নবীন সরদার (২৮) নামের যুবকসহ আরো দুই জনকে গুরুতর অবস্থায় নিজেদের উদ্যোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য বিগত প্রায় তিন যুগ থেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ আধিপত্যবাদের ঘটনা ঘটে আসছিল। গত শনিবার দিনগত রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকায় স্থানীয়ভাবে ককটেল ও বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে একটি বসত ঘর উড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গ্রামের একটি রসুন খেতে ককটেলের আঘাতে নিহত সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে আমরা তদন্তসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।