শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া ঔষধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির হোসেন বলেন, আমরা হাসপাতালে কথা বলে জানতে পেরেছি তিনি মারা গিয়েছেন। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ঔষধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট খোকন দাস। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীদের চিনে ফেলায় তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় তারা। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় খোকন দাসকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে দগ্ধ ও গুরুতর জখম হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদারকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।
খোকন দাসের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।