শরীয়তপুরে প্লাস্টিক ও দূষণ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠ পরিষ্কারকরণ অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাধাগ্রস্ত করছে মানুষের ফেলা পলিথিন ও বর্জ্য। পলিথিন অপচনশীল পদার্থ হওয়ায় সহজে মাটিতে মিশে যায়না। যা মাটির গুনাগুনকে নষ্ট করছে। পাশাপাশি যত্রতত্র মানুষের ফেলা বর্জ্য পরিবেশ দূষণ করে মানুষের রোগবালাই ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিষ্কারকরণ অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বুধবার সকালে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শহরে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে পৌরসভার শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পড়ে থাকা পলিথিন কুড়িয়ে মাঠটি পরিষ্কার করা হয়। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী-পরিচালক রাসেল নোমান, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য, শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী-পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, পলিথিন পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। পড়ে থাকা পলিথিন মূল্যহীন। এটি দীর্ঘদিন পরিবেশে স্থায়ী থাকে। যার ফলে এটি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। আমরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে পরিষ্কারকরণ অভিযান চালিয়েছি। আগামীতেও এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় খাদ্য পণ্যে প্লাস্টিকের মোড়ক বা প্যাকেট ব্যবহার করি এবং পরবর্তীতে তা ফেলে দেই। ফেলে দেয়া এই প্লাস্টিক থেকে মাইক্রো প্লাস্টিক হিসেবে আমাদের খাদ্য পণ্যে আসতে পারে এবং দিন দিন কৃষিজ পণ্যে এটির উপস্থিতি লক্ষণীয়। এর ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও ক্যান্সার রোগ বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যদি প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, আজকের কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মের মাঝে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য তার আশেপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখা যায় তা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ থেকে সমাজের মানুষ যাতে পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য সচেতন হয়। তাছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতি করে এমন বস্তু আমরা এক দিনেই কমিয়ে আনতে পারব না, তবে তা যেন ক্রমান্বয়ে হ্রাস করতে পারি সেজন্য সমাজের সকলের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে।