“নিরাপদ মৎস্য ও মৎস্য পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ” শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে গোল টেবিল বৈঠক।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এসডিএস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এ গোলটেবিল বৈঠক। এসডিএসের পরিচালক বিএম কামরুল হাসান বাদল এর সভাপতিত্বে রৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম। প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর জেলা মৎস্য অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার দে। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবদুল্লাহ আল ইমরান, নড়িয়া উপজেলা মৎস্য অফিসার জাকির হোসেন মৃধা, শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুতের এজিএম আবি আবদুল্লাহ, রুদ্রবার্তার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাইলট। গোলটেবিল বৈঠকে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য চাষী, খামারি, আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা মিলে অর্ধশতাধিক অংশগ্রহনকারি অংশগ্রহণ করেন।
এসডিএস এর প্রজেক্ট ম্যানেজার জাকির হোসাইনের স্লাইড প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে ভ্যালু চেইন প্রজেক্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এসময় তিনি বলেন, আমরা নিরাপদ এবং লাভজনক মৎস্য চাষ ও বাজারজাত করণের জন্য বিগত তিন বছরে এ প্রকল্প থেকে ৪০ জনকে প্রযুক্তি সহায়তা, ৪০ জনকে পণ্যের মডলিং করণে সহায়তা, ৩০ জনকে ফেইজবুক বুস্টিং সহায়তা, ১০ জন ইউটিউবারকে সহায়তা, পণ্যের লাইভ প্রোগ্রামের জন্য ২০ জনকে যন্ত্রপাতি সহায়তা দিয়েছি। এছাড়া আমরা ফার্ম মেকানাইজেশন এবং স্মার্ট অ্যাকুয়াকালচার সলিউশনসহ বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ মৎস্যজীবীদের জন্য বাস্তবায়ন করেছি।
মৎস্য খামার পুকুর ও হ্যাচারি পানির গুনাগুন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ আইওটি প্রযুক্তি স্থাপন করেছি। যার জন্য মৎস্য চাষিরা খুব সহজেই পুকুরের পানির গুনাগুন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারবেন। কিছু খামারীদের জন্য আমরা প্রোবায়োটিক প্রদর্শনীও করেছি। দেশ যেহেতু ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেহেতু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও উৎপাদনকারীদের ব্যবসা প্রসারের জন্য আমরা ফেসবুক অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বুস্টিং এর একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। যার কারণে তাদের ব্যবসার পরিচিতির প্রসার হয়েছে।
তাছাড়া জনসাধারণের বিনোদনের জন্য আমরা ফিশারিজ বেইজড ইকো ট্যুরিজমের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাছের ঘেরে ভাসমান রেস্টুরেন্ট, নৌকা ভ্রমণ, বিনোদনমূলক ফিশিং সহ ইত্যাদি কর্মকান্ড। পাশাপাশি শরীয়তপুরে উচ্চ মূল্যমানের দেশীয় প্রজাতির মাছের হ্যাচারি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে একই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যার কারণে মৎস্যজনিত যেকোনো পরামর্শ যেকোনো সময় তারা নিতে পারেন।
মৎস্যজীবী, মৎস্য খামারি ও মৎস্য সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য আমরা এই ধরণের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি।
মৎস্য খামারি আল আমিন বলেন, এই প্রযুক্তি নেওয়ার পর আমার একটি মাছও মারা যায়নি। আগে থেকে আমার মাছের উৎপাদনও বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিল ও সংযোগ সহজি করণের জন্য সহায়তা কামনা করেন। এখন আমি আমার অ্যাপসের মাধ্যমেই জানতে পারি আমার মৎস্য খামারের পানির এবং অন্যান্য পরিস্থিতি।
বৈঠকে উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর জন্য আমি বিভিন্ন সময় ফেসবুকে বুস্টিং করতাম কিন্তু কখনো সাড়া পেতাম না। এখন এসডিএস আরএমটিপি প্রকল্পের উদ্যোক্তা হয়েছি। এসডিএস আমাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ দেয়। যার কারণে এখন আমার, ব্যবসার প্রসারও বেড়েছে। আগে থেকে অনেক আয় ভালো।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দে বলেন, কৃষি মানেই হচ্ছে কৃষি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ। তবে কৃষিতে সরকারের সার্বিক সহায়তা পেলেও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি শরীয়তপুর জেলার খামারিদের একটি সমিতি ভূক্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলেন এটি অরাজনৈতিক হলে সবারই উপকার হবে।
নিরাপদ মৎস্য ও মৎস্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পটি মৎস্য খামারি এবং মৎস্য উদ্যোক্তাদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি সহায়ক। কেননা একমাত্র মাছ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ প্রোটিন। ভোক্তাদেরকে মাছের পুষ্টির বিষয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ গুলোতে মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরণের খাবার পরিবেশন করতে হবে। যার কারণে ভোক্তার আগ্রহ বাড়বে। তিনি আরো বলেন, আমাদের গোসাইরহাটের পোনা উৎপাদনের জন্য স্থাপিত হ্যাচারিটি সচল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবো। সুস্থ মৎস্য উৎপাদনের জন্য সুস্থ রেনুপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বৈঠক শেষে সভাপতির বক্তব্যে এসডিএস পরিচালক বিএম কামরুল হাসান বাদল বলেন, আমাদের আজকের গোলটেবিল বৈঠক ছিল মুলত মুক্ত আলোচনা। সকলের অংশগ্রহণ দেখে মনে হয়েছে আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে। এখন যদি চিহ্নিত সমস্যা গুলো সমাধানে সকলে মিলে কাজ করি তা হলে আমরা কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন ও প্রকল্পের সহায়তা কাজে লাগাতে পারবো। এর জন্য সবাইকে আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।