নির্মাণের ৮ বছরের মাথায় পদ্মায় ভাঙ্গনের মুখে বিলিন হতে চলেছে ১৫১ নং উত্তর মাথা ভাঙ্গা মান্নান সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ও কাঁচিকাটা বাজার।
এ ছাড়াও গত সাত দিনের আগ্রাসী পদ্মার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের চরবার্নিয়াল, শীবস্যাম, উত্তর মাথাভাঙ্গসহ ৪টি গ্রাম।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে মাত্র ৪০ ফুট দূরে আছে উত্তর মাথা ভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এ ভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ২/১ দিনের মধ্যেই নদী বক্ষে বিলিন হয়ে যাবে বিদ্যালয় ভবনটি।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাহাজাদি বলেন, আমাদের আশে পাশের গ্রাম গুলা গাঙ্গে ভাইংগা গেছে। আমাদের অনেক বন্ধু বান্ধবীরা অন্য গ্রামে চইল্লা গেছে। স্কুলডা ভাইংগা গেলে আমরাও যাইমোগা।
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ইমরান বলেন, আর ২ মাস পরে আমাগো পরীক্ষা এখন স্কুলডা ভাইংগা গেলে আমরা কই যাইমো? আমাগো পড়ালেখার কি অইবো! আমাগো গ্রামের অনেকেই বাড়িঘর লইয়া গেছেগা। আমার বাবা কইছে আমরাও যাইমোগা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল মামুন বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমরা বন্ধ করে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়টি থেকে নদীর দূরত্ব প্রায় দেড়শ ফুটের উপরে ছিলো। আজ এসে দেখি নদী স্কুলের ৩০/৩৫ ফুট কাছে চলে এসেছে। আমরা বিদ্যালয়টি পুনরায় কোথায় স্থাপন করবো তা বলতে পারছিনা। আমাদের সমস্যার কথা আমরা উপজেলার স্যারদের জানিয়েছি। আমাদের বিদ্যালয়ের মোট ৮৭ জন শিক্ষার্থী ছিলো। নদী ভাঙ্গনের কারণে এখন আছে ৫৩ জন। যার মধ্যে বিদ্যালয়ে এসেছে ২৯ জন।
সখিপুর থানা বিএনপির আহবায়ক ও কাঁচিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম এ হামিদ বলেন, গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে আমাদের ইউনিয়নে ৪টি গ্রাম বিলিন হয়েছে। পদ্মার ভাঙ্গনের আতংকে আছে কাঁচিকাটা বাজার, উত্তর মাথাভাঙ্গা মান্নান সরকার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলী জমি। প্রায় ৬ মাস পুর্বে কাচিকাঁটার নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ না দেয়ায় এখন আমরা ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হচ্ছি। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাটবাজারসহ বহু স্থাপনা হারিয়ে যাবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার আল মুজাহিদ দিপু বলেন, ২০১৬ সালে বিদ্যালয় বিহিন গ্রামে পিইডিপি-৪ এর আওতায় ১৫শ বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের ১ তলা ভবন নির্মাণ হয়। যা এখন ৮ বছরের মাথায় নদী ভাঙ্গনে বিলিন হতে চলেছে। বিদ্যালয় ভবনটি বিলিন হলে আমরা শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস ছোবাহান মুন্সী বলেন, আমরা বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। নদী বিদ্যালয় ভবনের কাছাকাছি চলে এসেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোতি ব্যতিত এ ভবন নিলাম করা যাবেনা। তবে বিদ্যায়লের অস্থায়ী সম্পদ সংরক্ষণের জন্য তালিকা করে রাখার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছি।