শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবু সিদ্দিক ঢালী নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে আবু সিদ্দিক ঢালী হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবি জানানো হয়। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তিসহ পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এই বিষয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা: আসলাম উদ্দিন মোল্লা বলেন, হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আমরা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এদের অনেকেই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
মানবন্ধনে নিহত আবু সিদ্দিক ঢালীর ছেলে রাজীব ঢালী বলেন, আমার বাবা কোনো অপরাধ করেননি। তাকে যেভাবে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, যারা আমার বাবাকে খুন করেছে, তাদের ফাঁসি হোক। পুলিশ এখন পর্যন্ত মাত্র দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু বাকিরা দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা কীভাবে সম্ভব? প্রশাসন কি করছে, আমরা জানি না। আমরা শুধু সুবিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
নিহতের বড় ভাই আবু আলেম ঢালী বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজও আমরা সেই দিনের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মামলায় ৪৩ জনের নাম থাকার পরও মাত্র দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা জানতে চাই, বাকি আসামিরা কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে! প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা শুধু বিচার নয়, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই।
উল্লেখ, ১২ জুন রাতে ভোজেশ্বর চান্দনি নদীর পাড় থেকে বাড়িতে আসার সময় মন্নাফ ছৈয়ালের বাড়ীর সামনের পাকা রাস্তায় কুপিয়ে আহত করা হয় আবু সিদ্দিক ঢালীকে। পরের দিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এঘটনায় স্থানীয় মিন্টু ছৈয়ালকে প্রধান আসামী করে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ জুন নড়িয়া থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বড় ভাই আবু আলেম ঢালী।