শরীয়তপুরে উপজেলা, স্থানীয়, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিয়ে আশ্বাস প্রকল্পের মানবপাচার প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এর বাস্তবায়নে, সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘আশ্বাস প্রকল্প’-এর আওতায়, মানব পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা নারী ও পুরুষদের জন্য করণীয় শীর্ষক এই কর্মশালা আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় কর্মশালায় বক্তারা বলেন, মানবপাচার একটি জঘন্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিই হচ্ছে প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। বক্তারা বলেন, অভিবাসনের আগে মানুষকে বৈধ প্রক্রিয়া ও ঝুঁকির বিষয়গুলো জানানো অত্যন্ত জরুরি। পরিবার ও সমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাচারের শিকার হয়ে যারা ফিরে এসেছেন, তাদের পুনর্বাসন, মানসিক সহায়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই এই সামাজিক সমস্যা রোধ করা সম্ভব। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, স্থানীয় গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে মানবপাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
উইনরক ইন্টারন্যাশনার এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী টিআইএম মাজহারুজ্জামান বলেন, আমরা বিদেশ ফেরতদের নিয়ে কাজ করি। সর্বশেষ ৪ বছরে যেসব ভুক্তভোগীরা অবৈধ মানবপাচারের শিকার হয়ে ফিরে তাদের মানষিক সাপোর্টসহ অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে থাকি। পাশাপাশি কেউ যেন পাচারের শিকার না হন। এবং সিটিপ মেম্বারদের মাধ্যমে এসব ভুক্তভোগীদের খুজে বার করি।
চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের শরীয়তপুর প্রতিনিধি নুরুল আমিন রবিন বলেন, যে পরিবারের সদস্যরা অবৈধ পথে বিদেশ গিয়ে মারা যাচ্ছেন বা মাফিয়াদের হাতে আটক হচ্ছেন। তাদের পরিবারগুলো নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, জেনে বা না জেনে অবৈধ পথে বিদেশে যাত্রায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মাফিয়াদের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনতে পরিবারগুলো ২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করছেন। জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ছে। অতএব অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা করতে গিয়ে কেউ যেন আর নিঃস্ব না হয়, এজন্য সকলকে মিলে একসাথে কাজ করতে হবে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মো: হেলাল উদ্দিন বলেন, মানবপাচার একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধ, যা আমাদের সমাজ ও দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পুলিশ প্রশাসন শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নয়, অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির কাজেও সম্পৃক্ত। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে যারা বিদেশ যেতে চান তাদের সঠিক তথ্য ও নিরাপদ অভিবাসনের বিষয়ে অবগত থাকা জরুরি। আমরা চাই, কেউ যেন প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না যান এবং পাচারের শিকার না হন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরণের অপরাধ দমন সম্ভব নয়। তাই সবাই মিলে সম্মিলিত ভাবে কাজ করলেই মানবপাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিদেশে অর্থ উপার্জন শরীয়তপুর এর মানুষের কাছে একটি উত্তম আয়ের মাধ্যম। অন্যান্য জেলার মানুষও তাই। মূলত পরিবারের কেউ না কেউ বিদেশ থাকেন, যার কারনে সেসব দেশে যাওয় নিরাপদ মনে করেন। এই ধরণের নিরাপদ বিদেশ যাত্রাকে আমরা স্বাগতম জানাই।
কিন্তু অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা করতে গিয়ে অনেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন। কোন কোন পরিবার নিস্ব হচ্ছেন। সকলের উচিত দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে যাওয়া। তাহলে যে কোন কাজ পেতে সহজ হবে।