আজ , , ,

শরীয়তপুর-২ আসনঃ আওয়ামীলীগের দুর্গ দখলে মাঠে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যরাও তৎপর

শরীয়তপুর জেলার রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে যুগের পর যুগ ধরে পরিচিত শরীয়তপুর-২ নড়িয়া-সখিপুর আসন। যার দখল নিতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সাথে তৎপর রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি শাষণতন্ত্র আন্দোলন, গনঅধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিশসহ বিভিন্ন দল। তবে এখনো তৎপর নয় এনসিপি ও জাতীয় পার্টি।
নবম সংসদ পর্যন্ত শুধু নড়িয়া উপজেলা নিয়ে ছিলো এ আসনের সীমানা। এর পরে দশম সংসদ নির্বাচনে সীমানা পরিবর্তন করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়ন (সখিপুর থানাকে) যুক্ত করায় ভোটের হিসেবে বদলে যায়। আওয়ামীলীগের দুর্গে হানাদেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কারণ (নড়িয়া যেমন আওয়ামীলীগের প্রভাব তেমনি সখিপুরে বিএনপির একক প্রভাব বিরাজ করছে)।
জুলাই আগস্টের বিপ্লবের পরে আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ায় এ আসনটি বিএনপির জন্য জয়ে অবারিত সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। বিএনপি’র সামনে এখন বিজয়ে সুবাতাস বইছে। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত এ আসনের ভোটারগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।
২০২৩ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ২৮৮ জন। পদ্মা নদী বিধৌত নড়িয়া উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন, ১ পৌরসভা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসন।
আসন্ন ত্রোদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় ভোটারদের মন জয়ের জন্য মাঠে বিএনপির ৫ জন গণসংযোগ করছে। পক্ষান্তরে ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাদে প্রতিটি দলেই একজন করে প্রার্থী মাঠে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরীক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থীর দেখা মিলেনি। শোনা যাচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এনসিপির ছায়ায় এ আসনে পুনবার্সিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ৮ বার, জাতীয় পার্টি ৩ বার, আর বিএনপি ১ বার এ আসনে নির্বাচনে জয় পায়।
আসন্ন ত্রোদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যে যার মতো করে প্রাচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনের প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণ। তার পরে যাদেরকে মাঠে দেখা যাচ্ছে তারা হলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারে সন্তান এস এম মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কর্নেল (অবঃ) ফয়সাল ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন আহম্মেদ জিন্টু।
জামায়াতে ইসলামির একক প্রার্থী ডাঃ মাহমুদ হোসেন বকাউল। তিনি চরভাগা বকাউল পরিবারের সদস্য। তাদের এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে ভোটের হিসেবে বিএনপির সাথে জামায়াতের বড় ব্যবধান থাকলেও তা ঘুচাতে প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে এ দলটি।
ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন এর পক্ষে এ আসন থেকে ভোটের লড়াইয়ে মাঠ কাপাচ্ছেন দুইজন তারা হলেন এ্যাডভোকেট মানিক মিয়া ও মুফতি ইমরান হোসেন। তাদেরও অবস্থানও ভালো বলে দাবী দলটির।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন হাফেজ দবির উদ্দিন।
ভিপি নুরের দল গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান সম্রাট মাঝি। তার পক্ষে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এসে তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সমাবেশ করে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করেন এবং নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের অনুরোধ করে গেছেন।
এ আসনে টানা ৫ বার সংসদ নির্বাচিত সংসদ সদস্য কর্নেল অব শওকত আলীর পুত্র দ্বাদশ সংসদের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ খালেদ শওকত আলীর নামও শোনা যায়। সে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় প্রার্থী হওয়া সহজ হবেনা বলে মণে করেন এলাকার মানুষ।
স্বাধীনতার পরে এ আসনে প্রথম সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন নুরুল হক, তিনি আততায়ীদের হাতে নিহত হওয়ার পরে উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হন ডাঃ এম এ কাশেম। এর পওে মরহুম কর্নেল (অব:) শওকত আলী ৫ বার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। একবার ডেপুটি স্পীকারও হন। এরশাদ আমলে এ আসনে ৩টি সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব টিএম গিয়াস উদ্দীন আহম্মেদ, আর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হিসেবে দন্ত চিকিৎসক ডাঃ কে এ জলিল নির্বাচিত হয়েছিলেন। সব শেষে একাদশ ও দ্বাদশ ভোটার বিহীন ও ডামি নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন একেএম এনামুল হক শামীম।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ মাসুম বালা বলেন, শরীয়তপুর-২ নড়িয়া-সখিপুর আসনের নড়িয়ায় আওয়ামীলীগের ভোট বেশি হলেও সখিপুরে বিএনপির ভোট অনেক বেশি। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে পতিত আওয়ামী লীগ পলাতক থাকায় বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। সফিকুর রহমান দীর্ঘদিন এ আসনে কাজ করছেন। তার সাথে সকল নেতা কর্মীর যোগাযোগ থাকায় মনোনয়ন ও জয়ের পাল্লা তার দিকেই বেশি ঝুকে আছে।
গণ অধিকার পরিষদের নেতা সখিপুর এলাকার ভোটার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সুবিধা জনক অবস্থানে থাকলেও বিজয় তত সহজ হবেনা। কারণ বিএনপি প্রার্থী শেষ পর্যন্ত সফিকুর রহমান মনোনয়ন পাবে। তিনি সখিপুর এলাকার মানুষ। তার বিপক্ষের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডাঃ মাহামুদুল হোসেন তার বাড়ি এ এলাকা চরভাগায়, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান সম্রাট মাঝির বাড়ি এ এলাকার উত্তর তারাবুনিয়ায় আর ইসলামি শাষনতন্ত্র আন্দোলনে প্রার্থী এ্যাডভোকেট মানিক মিয়া মনোনয়ন যদি পান তার বাড়িও এ আসনের ডিএম খালিতে। তাই এরা বিএনপি প্রার্থীর জন্য গুদের উপর বিষফোড়া হতে পারে।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রয়েল মাঝি জানান, এ আসনে বিএনপির সাথে আওয়ামীলীগই কারচুপির আশ্রয় নিয়ে জয়লাভ করে। বর্তমানে আওয়ামীলীগ মাঠে নেই তাই বিজয় বিএনপির দোয়ারে কাড়া নাড়ছে। কিরণ ভাই দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা। তিনি এ আসনে দলের মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।

Share this news as a Photo Card


০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্সেলোনায় শরীয়তপুর জেলা সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা

www.hongkar.com |
dailyhongkar