কাবিন নামা ছাড়াই এক নারীর সঙ্গে সংসার করার পর সন্তানসহ তাঁকে অস্বীকার করার অভিযোগে সাজ্জাদ আলম (৩২) নামে এক ইমামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার গোসাইরহাট থানায় এক নারী মামলাটি দায়ের করেন। ঐদিনেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তারকৃত সাজ্জাদ আলম উপজেলার বিনটিয়া গ্রামের হাফেজ বুলবুল আলমের ছেলে এবং দাশের জঙ্গল বাজারের মসজিদের ইমাম।
মামলায় ঐ নারী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার সঙ্গে বছরের পর বছর সংসার করেছেন সাজ্জাদ। কিন্তু কোনো কাবিননামা করেননি।
৭ বছর ঘর সংসার করার পর সন্তানসহ স্ত্রীকে অস্বীকার করেছেন মামলার অভিযুক্ত সাজ্জাদ।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে সাজ্জাদ আলমের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যায়গায় নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে।
একই বছর ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর পরিবার-পরিজন ছেড়ে তিনি সাজ্জাদের সঙ্গে তার বাড়িতে চলে যান। ওই সময় সাজ্জাদ তাকে তার বাড়িতে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে কিছু ভুয়া কাগজপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাদী বিয়ে করেন। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে একটি কাগজে সই নেওয়া হয়। অভিযুক্ত সাজ্জাদ বলেন আজ থেকে আমরা স্বামী স্ত্রী।
তবে কি রকম কাগজে সই নেওয়া হয়েছিল সেটি ভুক্তভোগী জানতেন না।
এ বিষয়ে বাদী বলেন, ‘সাজ্জাদ কে বিশ্বাস করে সংসার করেছি। সাজ্জাদ একটি মসজিদে ইমামতি করতো। বিয়ের কিছুদিন পর তার প্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়ে যায়। এরপর থেকে সাজ্জাদ আমার কাছে টাকা দাবি করতো।
আমি গহনা বিক্রি করে ও বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে দিয়েছে। কিন্তু এক পর্যায়ে আমি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেই।
এ নিয়ে টানাপোড়নের জেরে ২০২৫ সালে মার্চ মাসের ২৯ তারিখে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন সাজ্জাদ। এখন তিনি আমাকে এবং আমার সন্তানকে অস্বীকার করছেন। আমার ছেলের বয়স ৩ বছর। এখন সাজ্জাদ বলছে সে আমাকে বিয়ে করেনি। তার কোনো সন্তান নেই। সে আমার সঙ্গে বড় ধরণের প্রতারণা করে সংসার করেছে।
গোসাইরহাট থানার ওসি মো. মাকসুদ আলম বলেন, মামলায় দুই জনকে আসামী করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামীকে গ্রেফাতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।