শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘আশ্বাস প্রকল্প’-এর আওতায় এ কর্মশালাটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস)। আয়োজনে সহায়তা করে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও ‘আশ্বাস প্রকল্প’র প্রজেক্ট ম্যানেজার এস এম জাকির হোসেনের পরিচালনায়, উইনরক ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর এটিএম মাজহারুল ইসলাম সহ কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, “মানব পাচার শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ। দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও বিদেশে কাজের লোভ মানুষকে পাচারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। সচেতনতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই পারে এই চক্রকে রুখে দিতে।”
তারা আরও বলেন, “অনেক সময়ই দেখা যায়, প্রলোভনে পড়ে মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমায়, পরে শিকার হয় নির্যাতন ও শোষণের। তাই বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা, বৈধ পদ্ধতিতে যাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মানব পাচার রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে।
এই সময় নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “মানব পাচার একটি ভয়াবহ সামাজিক অপরাধ, যা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের নয়, গোটা জাতির জন্যই হুমকিস্বরূপ। অনেকে না জেনে কিংবা দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আর সেই সুযোগেই পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সচেতনতা ছাড়া এই অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই স্কুল, কলেজ, পরিবার এবং সমাজের সর্বস্তরে মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে এ বিষয়ে সজাগ ও দায়িত্বশীল হতে হবে, তাহলেই আমরা নিরাপদ সমাজ গড়তে পারব।”
এ সময় উইনরক ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর এটিএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার প্রতিরোধে কাজ করছি। শরীয়তপুর অঞ্চলের অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমাচ্ছেন। যারা পাচারের শিকার হয়ে ফিরে এসেছেন, তাদের আইনি সহায়তা, মানসিক সাপোর্ট ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে নানা রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি বিশেষ লক্ষ্য হচ্ছে যেসব সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠন মানব পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে, তাদের একত্র করা, যাতে ভুক্তভোগীরা সব ধরণের পরামর্শ ও সহায়তা সহজে পেতে পারেন।”
অনুষ্ঠান শেষে মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।