শরীয়তপুর জেলা সদরসহ ৪ উপজেলার ৩০ গ্রামে এক দিন আগে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। জেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীরের অনুসারী, চট্রগ্রামের সাতকনিয়া পীরে মুরিদান ও চাঁদপুর পীরের ভক্তবৃন্দসহ প্রায় ১০ হাজার হাজার মানুষ এক দিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে।
সুরেশ্বর পীরের অনুসারীসহ জেলার ৪ উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ শত শত বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
সুরেশ্বর দরবার শরীফ সূত্র জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় দের শত বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ভক্ত ও মুরিদানরা একই নিয়মে ঈদ উৎসব পালন করছেন। নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, চন্ডিপুর, ইছাপাশা, থিরোপাড়া, ঘড়িষার, কদমতলী, বালাখানা, নশাসন, ভূমখাড়া, ভোজেশ্বর, জাজিরা উপজেলার মনরখা কান্দি, বাইকসা কালাইখার কান্দি, মাদবর কান্দি, শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাঘিয়া, কোটাপাড়া, বালাখানা, প্রেমতলা, ডোমসার, শৌলপাড়া, ভেদরগঞ্জ উপজেলার লাকার্তা, পাপরাইল ও চরাঞ্চলের ১০টি গ্রামসহ ৩০টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবার ৩০ মার্চ রোববার ঈদ উদযাপন করেছেন।
রোববার সকাল ১০টায় সুরেশ্বর দরবার শরীফে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করেন সুরেশ্বর দরবার শরীফের মোতাওয়ালি সৈয়দ বেলাল নুরী।
সুরেশ্বর দরবারের মুরিদ সদর উপজেলার বাঘিয়া এলাকার আবদুল আলিম চৌকিদার বলেন, আমরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে এক দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করেছি। জেলার সবচেয়ে বড় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সুরেশ্বর দরবার শরীফ মাঠে। সে জামায়াতে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা দরবার শরীফের মুরিদরা জামায়াতের সাথে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য দরবার শরীফে আসেন।
সুরেশ্বর দরবারের গদিনশিন পীর সৈয়দ কামাল নুরী বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে ঈদের নামাজ আদায় শেষে ঈদের উৎসব পালন করেছি। এর ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর জেলার ৩০টি গ্রামে আমাদের প্রায় ১০ হাজার মানুষ রোববার ঈদুল ফিতর পালন করেছে। একই সঙ্গে তারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।