দৈনিক সমকালের শরীয়তপুর প্রতিনিধি সোহাগ খান সুজনকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারী) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা। ওই ঘটনায় সোহাগ খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যারয়ের পাশের সড়কে সোহাগ খানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক জনতা পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি নুরুজ্জামাল শেখ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এ হামলা করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় সুজনকে রক্ষা করতে আসলে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ-২৪ জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদারকেও মারধর করা হয়েছে। আহত সুজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওই মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাসস জেলা প্রতিনিধি, মজিবুর রহমান, দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি আলহাজ্ব মোঃ হাবিবুর রহমান হাবীব, আর টিভি প্রতিনিধি মোঃ আবুল হোসেন সরদার, মানব জমিন প্রতিনিধি শেখ খলিলুর রহমান, প্রথম আলো প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ, চ্যানেল ২৪ প্রতিনিধি নূরুল আমীন রবিন, সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিল প্রমূখ।
ওই হামলার ঘটনায় সোহাগ খান বাদী হয়ে সদরের পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হামলাকারি নুরুজ্জামাল শেখ, তার ভাই শামীম শেখ, সহযোগি ইব্রাহীম মোল্যা, তার ছেলে জিহাদ মোল্যা, মাকসুদা বেগম, মনির ঢালী, সালাউদ্দিন ঢালীকে আসামী করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে নুরুজ্জামাল শেখ আত্মগোপনে আছেন। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। মামলায় ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, দৈনিক জনতা পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি নুরুজ্জামাল শেখ শরীয়তপুর জেলা শহরের চৌরঙ্গি এলাকায় একটি ক্লিনিক ব্যবসার সাথে জড়িত। সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের রোগীকে প্যাথলজি পরীক্ষার বিষয় নিয়ে ও পরবর্তিতে ওই রোগির মৃত্যর ঘটনা নিয়ে কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা নিয়ে নুরুজ্জামাল শেখের সাথে ওই সাংবাদিকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। রোববার সদর হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়কের কক্ষে এ বিষয় নিয়ে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সালিশের পর কয়েকজন সাংবাদিক নুরুজ্জামানকে মারধর করেছেন এমন অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার জের ধরে সোমবার নুরুজ্জামান সমকালের জেলা প্রতিনিধি সুজন খানের কার্যালয়ের নীচে গিয়ে তার ওপর হামলা করেন।
সেই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছরিয়ে পরে। ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় নুরুজ্জামাল শেখ তার দলবল নিয়ে সুজন খানের ওপর হামলা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েক জন সুজনকে হাতুরি দিয়ে পেটাচ্ছেন। স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তার সাথে থাকা সাংবাদিক বিধান মজুমদার তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারিরা তাকেও মরধর করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা সংক্ষুব্দ হয়ে নুরুজ্জামান ও তার সাথে থাকা ব্যক্তিদের ধাওয়া করেন।