শরীয়তপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শরীয়তপুরে “বিজয়ের উল্লাসে, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঊুধবার (২৯ জানুয়ারি) শরীয়তপুর জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে সকাল ১১ টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, শরীয়তপুর মিলনায়তনে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে “বিজয়ের উল্লাসে, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জেলা তথ্য অফিসার শাহিন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আল বিধান মো. সানাউল্লাহ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মালাকার। আলোচনা সভায় তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলেন শিকদার। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনারবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় ুবক্তারা বলেন, তারুণ্যের হাত ধরে আসবে নতুন মুক্তির পথ। তরুণ প্রজন্ম আমাদের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীল মনোভাব ও অদম্য শক্তি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। বাংলাদেশের সকল বড় ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণরাই ছিল অগ্রগামী। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দিগন্ত উম্মোচন করেছেন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা জীবন দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের মেধা, চিন্তা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শোষণহীন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সকলের সচেষ্ট হতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা চার ভাগের এক ভাগ তরুণ এবং মোট জনগোষ্ঠির ৬২ শতাংশ কর্মক্ষম। বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ হিসেবে গড়তে হলে তরুণদের চিন্তা, মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্টীয় সমস্যা, মাদকের ভয়াবহতা, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে। তরুণ জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণে দক্ষ করে বাংলাদেশে বিদ্যমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। এজন্য তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসবাদের মতো অনাচার থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে এবং এসব সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মূল্যবোধ, সততা ও নৈতিকতা জাগ্রত করতে হবে।