বলার অপেক্ষা রাখেনা আমাদের অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা অতিতে যেমন ছিলো, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও তেমনি থাকবে।
সোমবার (২৭ জানুয়ারী) শরীয়তপুর জেলা কৃষি ঋণ মেলার উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি লক্ষ করেছি আমাদের জেলায় কৃষক পণ্য উৎপাদন করে তারা ন্যায্যমূল্য পায়না। আবার ভোক্তাকে অধিক দামে পণ্য কিনতে হয়। মাঝখানে লাভ করে যাচ্ছে মধ্যসুবিধা ভোগীরা। অথচ কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আগামী রমজান মাস উপলক্ষে কিছু উদ্যোগ নিবো, সেখানে কৃষক ভাইয়েরা যারা রয়েছে, তরুন ছাত্রসমাজ যারা আছেন তাদের সবাইকে এক ছাদের নিচে এনে কাজ করতে চাই। এ জন্য সকলের সহযোগিতা চাই। উপস্থিত ব্যাংক ম্যানেজারদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের কৃষকদের বাঁচাতে হবে। তারা যদি ভালোভাবে বাঁচে তবে বাংলাদেশ ভালো ভাবে টিকে থাকবে। এ জন্য সকল সরকারি বেসরকারি ব্যাংক সমূহকে এমন ভাবে কাজ করতে হবে যাতে তারা ভাবেন সরকারি অফিস সমূহ ও ব্যাংক গুলো তাদের জন্য আছেন। এ বিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টির জন্যই আজকে এ মেলা।
“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” এ প্রতিপাদ্যে শরীয়তপুর জেলা ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন এর সহযোগিতায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমী মাঠে এ মেলার আয়োজন করেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এর মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোঃ মেহেদী হাসান এর সভাপতিত্বে ও ন্যাশনাল ব্যাংক শরীয়তপুর এর ব্যবস্থাপক মোঃ আকরাম হোসাইন এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ শরিফুল ইসলাম, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান, বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ জিকিরিয়া হেলাল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক ইমরান আল নাজির।
বক্তব্য রাখেন, সফল কৃষক নয়ন হোসেন খান ও শহিদুল ইসলাম শেখ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া জেরীন ও এনডিসি মোঃ সোহের রানা।
দুই দিন ব্যাপি এ মেলায় কৃষক সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন অফিস ছারাও সরকারি বেসরকারি ব্যাংক সমূহের ৩৫টি স্টল বসেছে। মেলায় কৃষকরা ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা ও কৃষি ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।