আজ , , ,

মাহমুদপুরে বসে বিশাল জুয়ার আসর

ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসকারী নেশার মধ্যে জুয়া অন্যতম। আর সেই জুয়ার সবচেয়ে বড় আসর জমে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে। জুয়ার আসরে বসে দেশের সেরা জুয়ারীরা। আর এই জুয়ার আসর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ঢালীর চাচাতো ভাই ইউনুছ ঢালী। প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই এলাকার বখাটে ও সন্ত্রাসীদের হাত করে জুয়ার আসর পরিচালনা করায় স্থানীয় কেউ মুখ খলতে সাহস পায় না। জুয়াকে ঘিরে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অপরাধ বেড়েই চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রাম পার্শ্ববর্তী জেলা মাদারীপুরের সীমানা ঘেষে অবস্থিত। তাই সেখানে অপরাধের মাত্রা একটু বেশী। তার পরেও বর্তমানে চেয়ারম্যান শাহজাহান ঢালীর চাচাতো ভাই ইউনুছ ঢালী তার সহযোগী লোকমান হোসেনের সহযোগিতায় জুয়ার আসর বসিয়েছে সেই গ্রামে। মাহমুদপুর মডার্ণ হাই স্কুলের অপর পাশের জঙ্গলে এই জুয়ার আসর হওয়ায় বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। সেই জুয়ার আসরকে ঘিরে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যাতায়াত। তাই বিলুপ্তপ্রায় সর্বহারা সদস্যরাও মাথাচারা দিয়েছে। জুয়ার আসর ভেঙ্গে দিতে ছাত্র-শিক্ষকসহ এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
জুয়ার আসর খুঁজতে খুঁজতে গহীন অরণ্যে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জন জুয়ারী সেখানে জুয়া খেলছেন। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা জুয়া খেলার সরঞ্জাম পার্শ্ববর্তী ঝোপঝারে ফেলে চলে যায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জুয়া আসরের পরিচালক ইউনুছ ঢালীর সাথে কথা হয়। সে জানায় চেয়ারম্যান তার চাচাতো ভাই। তাদের অনেক প্রভাব রয়েছে। পার্শ্ববর্তী ছিলারচর ইউনিয়নের মেম্বার নবীন আকন ও সোহেল ছলাকার তার সাথে মিলে জুয়া পরিচালনা করে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোটি টাকার খেলা হয় এই আসরে।
স্থানীয়রা জানায়, যারা জুয়ার সাথে জড়িত তারা ভয়ঙ্করও বটে। তাদের দ্বারা সকল প্রকার খারাপ কাজ সম্ভব। তাই কোন প্রতিবাদ করতে পারি না। তাছাড়া পাশ্ববর্তী ছিলারচরের দুই প্রভাবশালী মেম্বার নবীন আকন ও সোহেল ছলাকার ইউনুছ ঢালীর সাথে জড়িত থাকায় জুয়ারিদের শক্তি বহুগুন বেড়ে গেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া জুয়ারীদের দমন করা সম্ভব না।
মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান ঢালী জানায়, ইউনুছ ঢালী তার বংশের চাচাতো ভাই। সে জুয়ার সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে অধপতন হয়েছে। পরিবার থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়েছে। সে শুদরে না। কয়েকদিন পূর্বে জুয়ার আসর থেকে ধরে নিয়ে নিলকুটি বাজারে নিয়ে মারপিট করা হয়েছে তাতেও তার কোন পরিবর্তন হয়নি।

Share this news as a Photo Card


৩১ আগস্ট ২০২৬

রাজনগরে হাজী আব্দুল মালেক মাস্টারের সপ্তম মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপন

www.hongkar.com |
dailyhongkar