শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বলেছেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লব এমনি এমনি হয়নি। দীর্ঘ দিনের শোষন বঞ্চনার পরে, আমাদের মাঝে একটি চেতনা কাজ করেছে। তা হচ্ছে এদেশের প্রতিটি মানুষ তার শিক্ষা, মেধা ও যোগ্যতা অনুযায় তার বেঁচে থাকার অধিকার পাবে। এ দেশে তারা শোষন বঞ্চনা ও বৈষম্য মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রে বেড়ে উঠবে। বৈষম্য বিরোধী চেতনা নিয়ে জুলাই-আগস্টে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। যে বিপ্লবে ছাত্র জনতা তাদের জীবন ও পঙ্গুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। এ চেতনাকে ধারণ করে আমাদের আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্য ও চেতনার মাঝে ফাটল ধরলে ছাত্র জনতার অর্জিত বিজয় ম্লান হয়ে যাবে।
তিনি বুধবার (২৭ নভেম্বর) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে-২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যূত্থানে আহত ও শহীদের স্মরণে স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাদিয়া জেরীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতদের আবেগঘন বক্তব্যে সভাস্থল ভাড়াক্রান্ত হয়ে উঠে। তাদের কান্নায় সভাস্থলের সকলের দৃষ্টি অশ্রুস্নাত হয়ে উঠে।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শহীদ নুর এর একমাত্র ছেলে মোঃ ইমন, শহীদ ইমন হোসেন আকাশের মা বেবী আক্তার, শহীদ কিশোর বাধন হাওলাদারের মা সাজিদা বেগম। আহতদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নড়িয়ার কামাল হোসেন সরল, জাজিরার মো: মাহফুজ, সখিপুরের নাজমুল। এ ছারাও বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি কান্তা আক্তার ও সাজ্জাদ হোসেন শুভ। তবে সভায় ছাত্র প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন শুভ বিষয় আপত্তি তুলে আহত কামাল হোসেন সরল। সভাপতি এ বিষয় ভবিষ্যতে তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ এর আশ্বাস দিলে বক্তব্য শুরু হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম পিপিএম, সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহপরাণ, জেলা নাগরীক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মাওলানা খলিলুর রহমান, সাংবাদিক আবুল হোসেন সরদার।
আলোচনার পূর্বে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং সভা শেষে আহতদের সুস্থ্যতা কামনায় ও শহীদ মাগফিরাতের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।