একটি ব্রীজের জন্য এলাকাবাসীর প্রানের দাবী, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পুরণ হয়নি। শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের ইকরকান্দি বাজার এলাকায় মরাপদ্মা (জয়ন্তী) নদীর উপর ফেরাঙ্গীকান্দি-ইকরকান্দি সংযোগস্থলে ব্রীজ নির্মাণের জন্য দাবী করে আসছে।
এখানে ব্রিজটি নির্মান না হওয়ার ফলে বছরের পর বছর ফেরাঙ্গী কান্দি, সূর্যমনি, মৃধাকান্দিসহ ৫ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হয়।
একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামেবাসীকে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সদরে তাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে ৬ কিলোমিটার ঘুরে কলেজ ব্রীজ অথবা ১০ কিলোমিটার দূরত্বের গাজীপুর ব্রীজ হয়ে আসতে হয়।
প্রতিদিন ইকরকান্দি মরাপদ্মা (জয়ন্তী) নদীর উপর খেয়া নৌকায় করে মানুষ পারাপার হয় বলে কেয়া ঘাটের মাঝি স্বপন মাদবর জানান।
স্থানীয় ইকরকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী অব্দুল হালিম বলেন, আমার বয়স এখন ৬৫। ছোটবেলা থেকে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছি। স্কুল, মাদ্রাসা, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিটি ক্লিনিক, বাজারসহ সব প্রতিষ্ঠানে নদী পার হয়ে আসতে একমাত্র অবলম্বন নৌকা। এ এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা খুবই জরুরী। এতে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনসহ, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, অর্থনীতি, ব্যবসাসহ এলাকাবাসীর সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ কামাল রাড়ি জানান, আমার বয়স প্রায় ৪৫ বছর আমার জন্মের পর থেকে আমাদের গ্রামের মানুষ এখানে একটি ব্রীজ নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছে। আমাদের ফেরাঙ্গী কান্দি, নাওডোবা, সিংজালা, সূর্যমনি, মৃধা কান্দিসহ ১০ গ্রামের মানুষ সীমাহীন কষ্টের মাঝ দিয়ে পারাপার হচ্ছে। শীত মৌসুমে কোন রকমে হলেও বর্ষায় সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশু শিক্ষার্থীদের কষ্টের যেন শেষ নেই।
নারায়নপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন খোকন বলেন, আমাদের নদীর পূর্বপাড়ে ১০ গ্রামের মানুষের বসবাস। তারা জীবনের প্রয়োজনে প্রতিদিন শিক্ষা চিকিৎসা ও ইউনিয়ন পরিষদের সেবা গ্রহণের পশ্চিম পাড়ে আসতে হয়।কারণ পশ্চিম পড়ে রয়েছে নারায়ন পুর ইউনিয়ন পরিষদ, উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৬ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সময় ও অর্থ বাঁচাতে এসব গ্রামের মানুষ খেয়া নৌকায়ই পারাপার হয়ে থাকে। নির্বাচন এলে ভোট প্রার্থীরা প্রতিবারই আমাদের ব্রীজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোট শেষ হওয়ার পরে আমাদের যেই কষ্ট সেই কষ্টই রয়ে যায়।
নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি সালাহউদ্দিন মাতাব্বর বলেন, আমার বাড়ি সূর্যমনি গ্রামে, প্রতিদিন আমাকে ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে পরিষদে যাতায়াত করতে হয়। অথচ একটি ব্রীজ হলে মাত্র ১ কিলোমিটার পথ হতো। ইকরকান্দি ও ফেরাঙ্গী কান্দি সংযোগের জন্য আমরা বছরের পর বছর দাবী জানিয়ে আসছি। এলজিইডি কয়েক বার মাপ জোকও করেছে। কিন্তু একটি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ এখনো কেউ নেয়নি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন, আমরা ঐ স্থানে একটি ব্রীজ নির্মাণের জন্য সাইড সিলেক্সন ও প্রাথমিক সমীক্ষা করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোন সারা মিলেনি, সদর দপ্তর বিষয়টি অনুমোদন করলেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবো।