পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ ও সমাবেশ করায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নড়িয়া উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে নড়িয়ার মুক্তারের চর ঈশ^রকাঠি এলাকার পদ্মার পাড়ে নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তার উপর এই হামলা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নড়িয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এই হত্যা চেস্টা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পদ্মা নদীর জাজিরার কুন্ডেরচর, বাবুরচর, চিডারচর ও নড়িয়া উপজেলা ঈশ^রকাঠি ও সুরেশ^র পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বড় বড় ড্রেজারের মাধ্যমে রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পদ্ম নদীর তীররক্ষা বাধ, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলী জমি। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর ঈশ^রকাঠি এলাকায় পদ্মার পাড়ে নড়িয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ করে স্থানীয়রা। সমাবেশ শেষে রাত ৮টার দিকে নাসির উদ্দিন বাড়ী ফেরার সময় অবৈধ বালু ও ড্রেজার ব্যবসায়ী ফারুক চৌকদার ও ফজল মাদবরের নির্দেশে লিয়াকত হাওলাদার, সুমন, যুবরাজ, তাদের দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যারা আমাদের এই নেতার উপর হামলা করেছে তাদেরকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক স্বপন মাঝি বলেন, যারা এই সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করছি।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আসলাম উদ্দীন মোল্লা বলেন, এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। মামলা হলে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।