মা ইলিশ রক্ষায় বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনা নিয়ে আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাকে ভিত্তি ধরে আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সেই লক্ষে শরীয়তপুর জেলার ৮৮.০৫ কিলোমিটার নদী নিরাপদ রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ। এ দিকে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আকতার শরীয়তপুর জেলা সফর করবেন বলে জানাগেছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ ভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের বংশ বিস্তারের জন্য ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনায় আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ন্যায় আমাদের উপজেলার ৩০ কিলোমিটার নদী পদ্মা ও মেঘনায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পালিত হবে। এ সময় মা ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা জেলেদের সচেতন করছি। মা ইলিশ ডিম ছাড়তে না পারলে দেশে ইলিশ সংকট দেখো দিবে। তাই নির্ধারিত সময়ে আইন মান্য করে সকলকে ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে।
নড়িয়া উপজেলা মৎস্য অফিসার জাকির হোসেন মৃধা বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমার উপজেলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর, ঘড়িষার ইউনিয়নের সুরেশ্বর বাজার মৎস্য আড়তে একটি সচেতনতা সভা করেছি। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এসএম রেজাউল করিম।
নড়িয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার শংকর চন্দ্র বৈদ্য এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যা, জেলা মৎস্য অফিসার মো. সেলিম আকতার।
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য অফিসার সেলিম আকতার জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আকতার বলেছেন বাংলাদেশে ইলিশ মাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈজ্ঞানিক ভাবে এ মাছ সংরক্ষণের দিন নির্ধারণ করা হয়। ইলিশ মাছ সুরক্ষায় বিজ্ঞানীরা পূর্ণিমা ও আমবস্যার সঙ্গে মিল রেখে করে থাকেন। এবারের তারিখটা নির্ধারণে সবাই একমত হয়েছি, সেটা হলো ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষে মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আকতার আগামী ৫ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা সফর করার কথা রয়েছে। যদিও আমরা এখনো অফিসিয়ালি কোন চিঠি বা সফর সূচী পাইনি। এছারাও আমরা প্রতি বছরের ন্যায় আমাদের কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশসহ যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে, তারা সবাই নজর রাখবে, কোথাও থেকে ইলিশ যেন কেউ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন ও বিপণন করতে না পারে।
এ দিকে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার জেলে দুলাল বেপারী (৬৫) বলেন, জন্ম থেকে পদ্মা মেঘনায় ইলিশ ধরতে ধরতে বৃদ্ধ হয়েছি। আমার জীবনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে এখন আর ইলিশ মাছ সাগর থেকে নদীতে আসতে পারছে না। কারণ নদী ভরাট, দূষন ও দখল হওয়ায় এটি হয়েছে।