সরকারি রাস্তা থেকে গাছ কেটে জব্বর সরদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিপাকে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেকে বসেছে সদর উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, স্থানীয় আমিন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জমি পরিমাপ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে গাছটি সরকারি জমিতে ছিল। সরকারি গাছ কাটা অন্যায় হয়েছে বলে জব্বর সরদার অনসূচনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার গয়ঘর এলাকার গফুর মাদবরের ক্রয়কৃত ৫৪ শতাংশ জমির উপর দিয়ে এলজিইডির রাস্তা চলে যায়। রাস্তার উভয় পাশে থেকে যায় গফুর মাদবরের জমি। রাস্তার পাশ দিয়ে গণউন্নয়ন প্রচেষ্টা নামে একটি এনজিও গাছ লাগিয়ে দেয়। গাছ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য উপকার ভোগী নিয়োগ করা হয় ভানু মালো নামে এক মহিলাকে। দীর্ঘ ৩৫ বছরে প্রতিটি গাছ অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যমানের হয়। সেই গাছের উপর নজর পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী জব্বর সরদারের। সে নিজের গাছ দাবী করে ৮/১০ জন লোক নিয়ে এসে সেই গাছ কেটে ফেলে। স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসে লিখিত অভিযোগ করায় প্রশাসন বিষয়টি আমলে গ্রহণ করেন। পরে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে গাছটি সরকারি রাস্তায় ছিল মর্মে প্রতিয়মান হয় প্রশাসন।
স্থানীয় বাবুল মাদবর ও সাবেক মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন সরদারসহ ভুক্তভোগীরা জানায়, গয়ঘর একটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। জব্বর সরদার সেই এলাকায় একজন প্রভাবশালী। তিনি জোরপূর্বক হিন্দুদের জমি ও বাড়ি দখল করে বসবাস করে। তার প্রতিবেশী সকলে তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। সে কারণে অকারেণে মামলা দিয়ে নিরিহ মানুষদের হয়রানী করে। এবার সে সরকারি গাছ কেটে নিয়েছে। তাকে আইনের আওয়ায় নেওয়া উচিৎ।
জব্বর সরদার জানায়, তিনি নিজেই গাছটি লাগিয়ে ছিলেন। গাছটি নিজের ঘর নির্মাণের জন্য কেটে ফেলেন। পরে বুঝতে পারেন গাছটি সরকারি জায়গায় রয়েছে। তাই তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অনুমতি নেওয়ার জন্য যায়। ইতোমধ্যে গাছ কাটার অভিযোগ ইউএনওর কাছে চলে যায়। সে সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জমি মেপে সরকারি জায়গা আলাদা করেছে। সেই অনুযায়ী গাছটি সরকারি জায়গায় পড়েছে। এখন প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাই মেনে নিব।
সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল আলিম বলেন, জমি পরিমাপ করে জানতে পারলান গাছটি সরকারি জায়গায় রয়েছে। তাই গাছটিও সরকারি। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব। কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে তা আমি জানি না।