শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুরে সরকারি রাস্তার পাশ থেকে গাছ কাটার হিরিক পড়েছে। গাছ কাটার সাথে জড়িত হয়ে পড়েছেন দলীয় নেত-কর্মীাসহ জনপ্রতিনিধিরা। বড় কোন সরকারি ছুটিতে এই গাছ কাটা হয়। গত ঈদুল ফিতর, বৈশাখী ছুটি ও ঈদুল আজহার ছুটিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য গাছ কাটা হয়েছে। এসব গাছ নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল হয়েছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। প্রশাসন নিবেন ব্যবস্থা।
ঈদুল আজহার সরকারি ছুটিতে বিনোদপুর মুন্সী কান্দি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে বৃহদাকার কয়েকটি চাম্বল গাছসহ অনেক কাঠের গাছ কেটে নেয় শাহিন মুন্সী নামের এক ব্যক্তি। তিনি মেম্বার লিটন মুন্সীর চাচাতো ভাই বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তিনি ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও অসংখ্য গাছ কেটে নিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষের দীর্ঘ ছুটিতে বিনোদপুর ইউনিয়নের বাছার কান্দি থেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী বৃহদাকারের রেইনট্রি গাছ কেটে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গাছের মূল উঠিয়ে সেখানে মাটি দিয়ে ভড়াট করে রেখেছে। একই ইউনিয়নের মুন্সী কান্দি এলাকা থেকে রাতের আধারে কয়েকটি গাছ কেটে নেয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায়, এভাবে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে নিলে যেমন পরিবেশ বিপর্যয় হবে তেমনি রাস্তা ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গিয়েও ম্যানেজ হয়ে গেছে। কিন্তু গাছ কাটা বন্ধ হয়নি।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার লিটন মুন্সী জানায়, রাস্তার পাশের জমি শাহিন মুন্সিদের। তাই নিজেদের গাছ দাবী করে কেটে নিয়েছে।
বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিয়াকত হোসেন জানায়, গাছ কাটার বিষয়ে সে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে মামলা করবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাইনউদ্দিন বলেন, কিছু সুযোগ সন্ধানী লোক থাকে যারা সরকারি ছুটিতে রাস্তার গাছ কেটে নেয়। এবারও রাস্তার পাশ থেকে গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্ত পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।