দেশের অন্যতম বেসরকারি হজ্জ এজেন্সি সাকিব এভিয়েশন ((হজ্জ লাইসেন্স নং-৩২৬) কাফেলার ২৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে হজ্জ প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ও দোয়ানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকাস্থ রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের ১৮ তলায় অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
শরিবার (২৫ মে) রাতে সাকিব এভিয়েশনের স্বত্বাধিকারি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাবীব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির পোস্তগোলা বড় মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন রাজবাড়ি জেলার পাংশা সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আওয়াবুল্লাহ্ ইব্রাহিম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী জাতীয় বীর মরহুম আব্দুর রাজ্জাক এর একান্ত সচিব মোঃ ইউনুছ ঢালী। পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন শরীয়তপুর পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা কেরামত আলী। ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন সাকিব এভিয়েশনের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাবীব এর একমাত্র পুত্র আলহাজ্ব মোফাচ্ছের রহমান আনাস।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, একজন মুসলিমের জীবনে হজের সফর নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যময়। বাইতুল্লাহর মেহমান হতে পারা সত্যিই পরম সৌভাগ্যের। হাজীগণ যদি বরকতময় এ সফরের মাধ্যমে চিরস্থায়ী কল্যাণ অর্জন করতে চায়, তাহলে প্রত্যেক হাজীকে হজ থেকে ফিরে এসে হজের প্রকৃত শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করতে হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকে বদলানোর, যাতে নিষ্পাপ হয়ে ফেরা এবং আত্মায় গুনাহের কালিমা আর না লাগে।
প্রধান আলোচক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা আওয়াবুল্লাহ্ ইব্রাহিম বলেন, সৌদি আরবের পরিসংখ্যান অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বছর সমগ্র বিশ্ব থেকে প্রায় ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন মুসলিম হজব্রত পালন করছেন। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছেন এক লাখের অধিক। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাইতুল্লাহর মেহমানগণ হজ্জের সকল কর্মসম্পাদন করে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরবে। তাঁরা নিষ্পাপ হয়ে, কলুষমুক্ত পবিত্র আত্মা নিয়ে, বাইতুল্লাহর সৌরভ ও মদিনার আবেশ নিয়ে যেন আসতে পারে তার জন্য দোয়া করি।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এক উমরা আদায়ের পর পরবর্তী উমরা পালন করার মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফ্ফারাস্বরূপ। আর হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো নিশ্চিত জান্নাত (বোখারি)।
হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো হাজী সাহেবের সঙ্গে তোমাদের সাক্ষাৎ হলে তাঁকে সালাম করবে, তাঁর সঙ্গে মুসাফাহ করবে এবং তিনি নিজ গৃহে প্রবেশের আগে তার কাছে দুআ কামনা করবে। কারণ তিনি নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এসেছেন (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)। বাইতুল্লাহ জিয়ারতের মাধ্যমে শপথ নিতে হবে, ধৈর্য, উদারতা ও হালাল রুজির। আরাফার বিশাল ময়দানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের মাধ্যমে ওয়াদা করতে হবে, বিদায় হজে রসুলে আরাবি (সা.)-এর দেওয়া ভাষণের মর্মবাণীগুলোকে বাস্তবায়ন করার। অন্তর থেকে মুছে ফেলতে হবে অহঙ্কারের কালিমা। কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে, বিতাড়িত শয়তানের সব ধরণের ধোঁকা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার। কোরবানির মাধ্যমে শিক্ষা নিতে হবে নিজের পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়ার। সর্বোপরি মদিনা মুনাওয়ারা গিয়ে প্রিয়নবী (সা.) এর রওজা শরিফ জিয়ারতের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ, অর্থনীতি, রাষ্ট্র তথা জীবনের সর্বস্তরে রসুল (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ইস্পাত কঠিন দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, হজ থেকে ফিরে এসে অনেক হাজী সেই শপথ, সংকল্প, ওয়াদা ও অঙ্গীকারের কথা বেমালুম ভুলে যান। শয়তানের ধোঁকায় এবং পর্থিব দুনিয়ার মোহে হাজারও গুনাহের জালে জড়িয়ে পড়েন।
সভাপতি সাকিব এভিয়েশনের স্বত্বাধিকারি আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, হজ পালনকারীগণ মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ মেহমান এবং বিপুল সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং এই সম্মান ও মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে পরবর্তী জীবন তাকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করতে হবে। আমরা আল্লাহ মেহমানদের সেবা করি। আমাদের প্রতি বছরই হজ্জ যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা আমাদের সেবার মান আরো বাড়িয়ে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য সকলে দোয়া প্রত্যাশা করছি।
পরিশেষে দয়াময় আল্লাহতায়ালার কাছে এই ফরিয়াদ, হে পরোয়ারদিগার প্রত্যেক বাইতুল্লাহর মেহমানকে হজের মৌলিক শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করার তৌফিক দান করেন আমিন।