আজ , , ,

শেষ হলো মহিষারের ৭ দিন ব্যাপি দিগম্বরী মেলা

সকল মানুষের মিলন মেলা, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পূজা অর্চনা ও বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে মহিষার দিগম্বরী মেলা। শনিবার (২০ এপ্রিল) ক্রেতা বিক্রেতার হাক ডাকের নিস্তব্দতা ও ভক্ত দর্শনার্থীদের প্রস্থানে পর্দা নামে হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক এ মেলা। আয়োজক ও দর্শনার্থীরা একযোগে গেয়ে উঠে সেই বিখ্যাত গান “আবার মিলবে মেলা, বটতলা হাট খোলা অঘ্রানে নবান্নে উৎসবে। সোনার বাংলা ভরে উঠবে সোনায়, বিশ্ব অবাক চেয়ে রবে”। পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) রবিবার মেলা শুরু হয়ে (২০ এপ্রিল) ৭ বৈশাখ শনিবার শেষ হয় মেলা।
মেলা উপলক্ষে সাতদিন ধরে উদয় থেকে অস্তাবধি চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা অর্চনা। পুর্নার্থীরা পাপ ও রোগ মুক্তি প্রত্যাশায় জীয়শ পুকুরে করেন পূর্ণস্নান। সেই সাথে দেবীর খুশির জন্য দিয়েছেন শনি ও মঙ্গলবার পাঠা বলি।
মেলায় বসেছে কুটির শিল্প, হস্ত ও কারুশিল্প সামগ্রীসহ কয়েক শত স্টল, শতাধিক খাদ্যপণ্যের দোকান সহ রকমারি প্রসাধনীর দোকান। নাগরদোলা, সাম্পান, জাদুর চেয়ার, ঘোড়ার চক্করসহ বিনোদনের নানান উপকরণ।
মেলার দোকানী সামজান রানী মৈশাল বলেন, ঝড় বৃষ্টির জন্য মেলায় বেচা কেনায় ছন্দপতন হয়েছে, আমাদের কাঙ্খিত পণ্য বিক্রি করতে পারিনি।
মেলা কিমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক ব্যানার্জি বলেন, এবার মেলার সফল সমাপ্তি হয়েছে। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর মেলা জমজমাট ছিল। সবার সহযোগিতা ও প্রশাসনের আন্তরিকতায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখমুখি হতে হয়নি।
মেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে মানুষের মেলা হচ্ছে মহিষার দিগম্বরী মন্দির কমিটির আয়োজিত ৭ দিন ব্যাপি এ মেলা। এখানে জেলা ও জেলার বাহির থেকে আগত হাজার হাজর দর্শক সমবেত হওয়ার পাশাপাশি ভারত নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে ভক্তরা সমবেত হয়েছে। সকলের প্রাণের ভক্তি আর ভালোবাসায় ঘটে প্রাণের উচ্ছসিত মেলার সফল সমাপ্তিতে স্রষ্টার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই। বেঁচে থাকলে আবার নতুন বছরে নব উল্লাসে আমরা মিলবো প্রাণের মেলায়।
মহিষার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি মোঃ অরুন হাওলাদার বলেন, আমার ইউনিয়নে স্মরণ অতিত কাল থেকে দিগম্বরী মেলা চলমান রয়েছে। আমাদের প্রাণের এ মেলাটি সকল মানুষের মেলায় পরিনত হয়েছে। এখানে গৃহস্থালির পণ্য মসলা, তৈজসপত্রসহ নানান পণ্যের সমাহার ঘটে থাকে। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে সম্ভব সকল প্রকার সহায়তা দিয়ে থাকি তাদের।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপজেলায় তথা শরীয়তপুর জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ মেলা এটি। আমার শোনা মতে প্রায় ১২শ বছরের পুরাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আয়েজনে হলেও হিন্দু মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষজনের মিলনের মোহনা ছিলো এ মেলা স্থল। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মেলা কমিটির পাশে থেকে তাদের সহায়তা দিয়েছি। তাই এবার মেলার আয়োজন সুন্দর ও সার্থক হয়েছে।

Share this news as a Photo Card


২১ মে ২০২৬

গোসাইরহাটে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক ত্রৈ-মাসিক সমন্বয় সভা

www.hongkar.com |
dailyhongkar