শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দলালদের দৌরাত্ব, চিকিৎসকদের অবহেলাসহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এবার শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাইনউদ্দীন দালাল নির্মূলে হাসপাতালে অভিযান চালায়। অভিযানকালে সিভিল সার্জন ডা, আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান, সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, আবাসকি মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার, মেডিকেল অফিসার ডা. আকরাম এলাহী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের নাজির স্বপন পাহাড় উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে কয়েক নারী দালাল ও প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স চালকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অথচ সেই মুহুর্তে মতিয়ারা বেগম (৫৫) নামে একজন রোগী যায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডা. কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াসের চেম্বারে। তিনি তাকে ৫টি পরীক্ষা লিখে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে সহকারীর মাধ্যমে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। অথচ সেই সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ব্যবস্থা সদর হাসপাতালেই রয়েছে।
রোগী মতিয়ারা বেগম জানায়, ডাক্তার পরীক্ষা লিখে তার সহকারীর মাধ্যমে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠায়। পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ডাক্তারকে পায়নি। পরে তিনি তত্ত্বাবধায়কের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন। তত্ত্বাবধায়ক আরএমওকে বিষয়টি সমাধান করতে বলেন।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান বলেন, একজন ডাক্তার তার চেম্বারে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষ্যে একজন সহকারি নিয়োগ দিতে পারবেন। একাধিক সহকারী নিয়োগের কোন সুযোগ নাই।
তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালের ভিতরে এ্যাম্বুলেন্স না রাখার জন্য নিজে বলেছি এবং আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে উল্লেখ করেছি। কোন লাভ হয়নি। তাছাড়া আমি আসার পূর্বে যা হয়েছে তা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি কোন দালালকে সুযোগ করে দেইনি। মতিয়ারা বেগম যে পরীক্ষা নীরিক্ষা বাহিরে করেছেন তার সব কয়টি হাসপাতালেই হয়। যে ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষার জন্য বাহিরে পাঠিয়েছেন সেই বিষয়ে তাকেই জবাব দিতে হবে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাইনউদ্দীন বলেন. সদর হাসপাতাল সেবা মুখী ও জন বান্ধব করার লক্ষে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে কয়েকজন সন্দেহভাজন দালালকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।