আজ , , ,

গোসাইরহাটে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায়

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃষকরা ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পড়ে দেদারসে বিক্রি করছে ফসলি জমির উপরিভাগের টপ সয়েল উর্বর মাটি। এতে ফসলি জমির আবাদ হুমকিতে পড়েছে। কৃষিবিদরা বলেছেন, এভাবে মাটি কাটায় ফসলি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারী) রাতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গোসাইরহাট বাজারের পূর্ব দিকে নদীর ওপারে ইদিলপুর ইউনিয়নের চর মহিষকান্দি গ্রামে জসিম হাওলাদারের ফসলী জমির মাটি কেটে রাতের আঁধারে বিভিন্ন ইটের ভাটায় বিক্রি করছে। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে অবৈধ মাহিদ্রাও ট্রলি গাড়ি বোঝাই করে শ্রমিকরা দেদারসে মাটি কেটে বিভিন্ন ইট ভাটাতে নিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার রফিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, উপজেলার প্রত্যেক এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। অসহায় কৃষকদের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিচ্ছে মাটি খেকো সিন্ডিকেট ও ইটভাটার মালিকরা। এতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য, পুকুর ও ঘের খননের নামে সংকুচিত হচ্ছে ফসলি জমি।
গোসাইরহাট উপজেলায় মোট ৬টি ইটের ভাটা রয়েছে। পাশের উপজেলা ডামুড্যা ইটের ভাটায়ও দেওয়া হচ্ছে। এ ইটভাটা গুলোতে বছরে কয়েক কোটি ইট পোড়ানো হয়। ইট পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ভাটার মালিকরা ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে। আবার অনেকে ইটভাটাতে মাটি বিক্রির জন্য কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন করেছে। এর ফলে হাজার হাজার একর কৃষি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। ফসলি জমির মালিকরা না বুঝে ইটভাটার মালিকদের প্রলোভনে পড়ে দেদারসে মাটি বিক্রি করছে। কৃষকরা না বুঝে ফসলি জমির এক হাজার মাটি এক হাজার টাকায় বিক্রি করছে। ইট মালিকরা ওই মাটি রাতের আঁধারে অবৈধ ভেকু মেশিন দিয়ে অনেক গভীর করে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেক কৃষক ঘের করার নামে ভাটার মালিকদের মাটি দিয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন, শুধু ফসলি জমি না নদীর পাড়ের মাটি, সরকারি খাঁস জমিসহ সরকারি বিলের মাটিও কেটে নিচ্ছে এসকল সিন্ডিকেট। এই সব মাটি ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষমতাশালী।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩, মাটির ব্যবহার হ্রাসকরণ নিয়ন্ত্রণ আইনে উল্লেখ আছে, ইট প্রস্তুতের জন্য ইটভাটার মালিকরা কৃষি জমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোনো ব্যক্তি ৫ এ উপধারা (১) এ বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটা প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহার বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন তা হলে তিনি অনধিক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নলমুড়ি ইউনিয়নের সোহরাব হোসেন বলেন, ‘জমির মালিক এখানে পুকুর কেটে মাছের চাষ করবে। এ কারণে আমি তার কাছ থেকে মাটি কিনে ইটের ভাটায় বিক্রি করছি।
ইটভাটার মালিকরা এ আইনের তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

Share this news as a Photo Card


১২ অক্টোবর ২০২৬

ডামুড্যায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

www.hongkar.com |
dailyhongkar