চল্লিশ বছর বয়সে এসে ইমামতি শুরু করেছিলেন। ৭৫ বছর বয়সে অবসর নিলেন হাফেজ ওয়াজ উদ্দিন শেখক। তার বিদায়কে জাকজমকপূর্ণ করে অবিস্মরণীয় করে রাখলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের কাপাশপাড়া গ্রামের লোকজন।
শুক্রবার (০২ ফেব্রুয়ারী) বাদ জুমা বিদায়ের প্রাক্কালে মুসল্লীরা তার রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার অয়োজন করেন। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ এক লাখ টাকা ও নানা উপহার সামগ্রী।
এ সময় গ্রামের যুব সমাজ মোটরসাইকেল বহরে করে তাকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তার বাড়ি নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ^র ইউনিয়নের উপসী গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।
মসজিদের সভাপতি মো: রাসেদুজ্জুমান খান বলেন, ইমাম সাহেব নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের কাপাশপাড়া বাইতূন নূর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দীর্ঘ ৩৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই ৩৫ বছরের মধ্যে তিনি গ্রামবাসীর সঙ্গে মিশে গেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। এ অবস্থায় তার বিদায় নিতে হচ্ছে। বিদায় বেদনার হলেও এলাকাবাসী তা কষ্টে মেনে নেন এবং তার সম্মানে আয়োজন করেন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার।
এমন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনায় অভিভূত হাফেজ ওয়াজ উদ্দিন শেখ। তিনি জানান, যুবক বয়সে এ মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব নেন। তাকে যারা ইমামতিতে নিয়েছিলেন অনেক মুরুব্বিরা আজ আর বেঁচে নেই। তবে তাদের সন্তানরা, গ্রামের অন্যান্যরা তাকে ভালোবাসেন, শ্রদ্ধা করেন। তিনি অসংখ্য ছাত্রীদের কোরান শিক্ষা দিয়েছেন। তদের অনেকেই ভালো অবস্থানে আছেন। কিন্তু তারা তাকে ভুলে যাননি। তাকে ভালোবাসেন।
তিনি জানান, বার্ধ্যক্য জনিত কারণে তার পক্ষে আর ইমামতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি গ্রামবাসীর অনুরোধ সত্ত্বেও ইমামতি থেকে অবসর নিলেন।
গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইমাম সাহেব বার্ধক্যজনিত করণে চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছেন। গ্রামবাসী চেয়েছিলেন এমন একজন মহৎ ব্যক্তির বিদায় অনুষ্ঠান যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই তারা সুসজ্জিত মঞ্চ করে বিদায় অনুষ্ঠানের অয়োজন করেন। সেখানে নানা বয়সী মানুষ স্মৃতিচারণ করেন।