শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক নারীকে গণধর্ষন করে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আল আমিনকে (২৫) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে গত ১৬ জানুয়ারি পাঁচ আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেন শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামীরা হলেন-নিজাম বালী (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ওমর ফারুক বেপারী (২৪), আল আমীন বেপারী (২০) ও ইব্রাহীম মোল্লা (২১)। তারা সবাই ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ সুতলকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় নিজাম বালি ও মোহাম্মদ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর ৩ আসামী পলাতক ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার ৫৫ বছর বয়সী নারী ফিরোজা বেগম। ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বড় নওগাঁ এলাকার আব্দুর রহমান মাষ্টারের বাড়ির পূর্বপাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে হাত ভাঙা ও মাথায় আঘাতের ক্ষত চিহ্নসহ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে আদালতে মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই লাল মিয়া সরদার। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। তখন বাকি আসামীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ওই বছরের ২৮ এপ্রিল মামলার এজাহারভুক্ত আসামী নিজাম বালীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় আটককৃত নিজাম বালি, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আলী। তবে অন্য দুই আসামী ইব্রাহিম, আল-আমীনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তারা এখনও পলাতক রয়েছে। আর মামলা চলাকালে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে যায় ওমর ফারুক।