আজ , , ,

ভেদরগঞ্জে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে রিনার ভাগ্য বদল

ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বাজারজাত করে নিজের ভাগ্য বদলে নিয়েছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের চরচাঁন্দা গ্রামের কৃষানী রিনা বেগম।
আর্থিক অনটনের কারণে ও দেনার দায়ে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের বকাউল কান্দি গ্রাম থেকে চলে আসা রিনা বেগম এখন একজন সফল উদ্যোক্তা।
তিনি এখন ডিএমখালির চরচাঁন্দা গ্রামে ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন করে বছরে দের থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা আয় করছে। হয়েছেন উপজেলার কেঁচোসার উৎপাদনকারি সমিতির সভাপতি।
সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাযায়,ভার্মি কম্পোস্ট সার বা কেঁচো সার কৃষি ফসল উৎপাদনে অত্যন্ত কার্যকরী একটি জৈব সার। এ সার রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক সুবিধা পাওয়ায় দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নে ২০১৪ সালে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করে রিনা বেগম। ১০ বছর ব্যবধানে তিনি এখন প্রতি মাসে ৪ টন বছরের ৪০/৫০ টন সার উৎপাদন করছে।
তার এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন তাকে বিভিন্ন সম্মননা ও সনদ প্রদান করেছে।
তার দেখা দেখি এ গ্রামের নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী সদস্যরা স্বল্প পুঁজি খাটিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় কেঁচোসার উৎপাদন করে বাড়তি আয় করে তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখছেন।
প্রাথমিক ভাবে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে ৪২ ইঞ্চি স্কোয়ারের একটি পাকা রিং, ১২০ কেজি গরুর গোবর, ৫০০টি কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনের কাজ শুরু করা যায়। এতে রিং প্রতি এক হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। ২৫ থেকে ৩০ দিন পর ৮০ কেজি সার পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্যে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার’ টাকায় বিক্রি করা হয়। এরপর আর কেঁচো কিনতে হয় না। ওই রিংয়ে কেঁচো বংশ বিস্তার করে। পরবর্তী সময়ে ওই কেঁচোগুলো নতুন রিংয়ে দিতে হয়।
কেঁচো সার উৎপাদনকারি রিনা বেগম জানান, ২০১৪ সালে স্বামীর দেনার দায়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে এক প্রকারে হাতে পায়ে এখানে চলে আসি। আমাদের সমস্যার কথা শুনে কৃষি অফিসার মামুন স্যার আমাদের উপজেলার বড় স্যারের কাছে নিয়ে যায়। শাখাওয়াত স্যারের দেয়া ৭ পিচ টিন, ৬টি চারি আর ৩ কেজি কেঁচো দিয়ে আমার যাত্রা শুরু। এখন আমার ৫শ চারি ও ১৫টি পাঁকা সেডে প্রতি মাসে ৪ টন সার উৎপন্ন হয়।
প্রতি মাসে সব খরচ বাদ দিয়ে আমার ৩৫ থেকে ৪০ হার টাকা আয় হয়। স্বামী তারা বকাউল ছারাও তার এ কাজে ৪ জন সহযোগি নিয়মিত কাজ করছে। তাদের সমিতির মাধ্যমে উৎপাদিত সার বিভিন্ন এলাকার সার ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বিক্রির জন্য বাইরে যেতে হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষি উন্নয়নে ব্যয় কমিয়ে ফসল উৎপাদন বাড়াতে কম্পোস্ট সার বা কেঁচো সার উৎপাদন করে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো সম্ভব। তাই আমরা কেঁচো উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়েছি। এর আলোকে চরচাঁন্দা গ্রামে এই সার উৎপাদন করছে। এ বিষয় ওই খানে একটি সমিতিও গড়ে উঠেছে। আমাদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২০১৪ সালে এসিডিপি ও পরে এনএটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা রিনা বেগমকে সহায়তা প্রদান করি। তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। নিজে স্বাবলম্বি হওয়ার সাথে দেশের কৃষি উন্নয়নেও অবদান রয়েছে। এ জন্য হয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতা। ভার্মি কম্পোস্ট হচ্ছে মাটির জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মানের সার। আমাদের উপজেলায় এ সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদে চাহিদা পুরণে রিনা বেগমের পাশাপাশি আরো উৎপাদনকারি তৈরীর জন্য কাজ করছি।

Share this news as a Photo Card


১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডামুড্যায় নকল ঔষধ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

www.hongkar.com |
dailyhongkar