শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের কাকৈশার, সামন্তসার ইউনিয়ন, কোদালপুর ইউনিয়নের ঠান্ডার বাজার ও দাইমী কোদালপুর, এলাকায় স্থানীয় একটি চক্র মেঘনা নদীর তীরের মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মাটি যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। প্রায় দুই মাস ধরে নদীর বাঁধের পাশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর উভয় তীরের মাটি কাটা হচ্ছে। এতে নদীর গতি পরিবর্তন ও বর্ষায় তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, গোসাইরহাটের জয়ন্তী নদীর পূর্ব ও পশ্চিত তীরে উপজেলার কোদালপুুর ইউনিয়নের ঠান্ডার বাজার, কুচাইপট্রি ইউনিয়নের নদীর পশ্চিম ও দক্ষিন তীরে ও হাটুরিয়া ইউনিয়ন এলাকায় বাঁধের পাশ থেকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ট্রলারে তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় বাঁধের পাশের জমির উপরিভাগ থেকে তিন থেকে সাত ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। বাঁধের পাশের জমির মালিকরা তাদের জমি থেকে মাটি বিক্রি করছেন। কাকৈশার এলাকায় মাস্টার বাড়ির টলার ঘাট উত্তর ও পশ্চিম এলাকায় পাশাপাশি ২০-৩০ জন শ্রমিক কোদাল দিয়ে মাটি কাটছেন।
কাকৈশার এলাকায় বাঁধের পাশ থেকে মাটি কাটার কাজের তদারকি করা নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক তরুণ জানান, এখান থেকে মাটি কেটে ‘অর্ডার’ অনুযায়ী বিভিন্ন ইটভাটায় পৌঁছে দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী এসব জমির উপরিভাগ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বাঁধের পাশ থেকে খাড়াভাবে মাটি কেটে বিক্রি করায় প্রতি বর্ষায় বাঁধসংলগ্ন পাড়ের মাটি ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে নদীর দুই পাশের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। আর বাঁধ ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা তলিয়ে যাবে।
নদীর তীর থেকে মাটি কাটার বিষয়ে টলার বহনকারী একজন বলেন, শুধু আমরা না, নদীর তীর থেকে আরও অনেকেই মাটি কাটছেন। জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে নিয়েছি। এরপর মাটি কাটছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, গোসাইরহাট নদীর বাঁধের পাশ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি জানা নেই। বাঁধের ক্ষতি করে নদীর তীরের মাটি কাটা অবৈধ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা জান্নাত তাহেরা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বাঁধের ক্ষতি করে মাটি কাটা খুবই গুরুতর অপরাধ। সত্যতা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।