আজ , , ,

তীব্র শীতে নাকাল শরীয়তপুরের চরাঞ্চলের মানুষ

দেশের বিভিন্ন জেলার ন্যায় গত বৃহস্পতিবার থেকে পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত মধ্যাঞ্চলীয় জেলার শরীয়তপুরেও বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়, দিন ও রাতের তাপমাত্রা কাছাকাছি চলে আসায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে, পাশাপাশি মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশা বিরাজ করছে।
তবে রবিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শরীয়তপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কাচিকাটায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পৌষের শেষ সময়ে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শরীয়তপুরে জেঁকে বসেছে শীত। সকাল থেকে দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সূর্যের উত্তাপ না থাকায় শীতের অনুভূতি বেড়েছে। ঘনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। গত ৩ দিন থেকে হিমেল হাওয়া ও ঘনকুয়াশার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ পড়েছে দুর্ভোগে।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় শরীয়তপুরে ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ অবস্থায় জেলার শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষ। কনকনে শীতের কারণে কাজে বের হতে না পারায় দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, গোসাইরহাটের কুচাইপট্রি ইউনিয়নের মাঝেরচর, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া, জাজিরার কুন্ডেরচর পূর্ব নাওডোবা, পালেরচরের সাধারণ মানুষ শীত কষ্টে পরেছে।
জাজিরা উপজেলার কুন্ডের চরের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীত। কাজে বের হলে হাত-পা হিম হয়ে যায়। কিন্তু কাজে বের না হলে তো চলে না। খাওয়ার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়ন সুরেশ্বর নৌঘাটের ট্রলার চালক সিরাজ উদ্দিন বলেন, শীতের কারণে ১০ হাত দূরের কোনো কিছু দেখা যায় না। এ অবস্থায় নৌকা চালাতে অসুবিধা হয়। এক ঘণ্টা দূরত্বের নৌপথ যেতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল আমীন দেওয়ান বলেন, দুই দিন থেকে শীত পুরোদমে নেমে গেছে। কনকনে শীতের কারণে গরীব মানুষ কষ্টে আছে। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে ৬শ কম্বল পেয়েছি। যা পাওয়ার সাথে সাথে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার জনগণের চাহিদার তুলনায় ৬০০ কম্বল যত সামান্য। আমি ২ হাজার কম্বলের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন থেকে দুই দফায় আমাদের উপজেলার জন্য মোট ৭ হাজার ৩২৮ পিস কম্বল পাওয়া পর তা উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার জনসংখ্যার অনুপাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card


০১ অক্টোবর ২০২৬

নড়িয়ায় পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ফাটল

www.hongkar.com |
dailyhongkar