পদ্মা সেতুর শ্যামলভূমি শরীয়তপুর জেলা জাতীয় সংসদের তিনটি আসন নিয়ে গঠিত। সদর-জাজিরা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ জাতীয় সংসদের ২২১ আসন। নড়িয়-সখিপুর নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-২ জাতীয় সংসদের ২২২ আসন। ভেদরগঞ্জ ( আংশিক), ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর =-৩ জাতীয় সংসদের ২২৩ আসন।
শরীয়তপুর-১ (সদর-জাজিরা) আসনে মোট ভোটা সংখ্যা ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৩৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৩শ, নারী ভোটার ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৮, হিজড়া ১১ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী মোট ৫ জন।
তারা হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (ঈগল) জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির প্রার্থী মো. দেলোয়ার (গোলাপফুল), তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী আবুল বাশার মাদবর।
নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার অংশিক সখিপুর থানার ৯ ইউনিয়ন নিয় গঠিত জাতীয় সংসদে শরীয়তপুর ২ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ২৮৮। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৬৩, নারী ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ২৩ জন, হিজড়া ২ জন।
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সহ ১১ জন প্রার্থী। তারা হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী একেএম এনামুল হক শামীম (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী (ঈগল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ওয়াহিদুর রহমান (লাঙ্গল), জাকের পার্টির প্রার্থী মো. বাদল কাজী (গোলাপফুল), জাসদ প্রার্থী মো. ফিরোজ মিয়া (মশাল), গণফ্রন্ট প্রার্থী কাজী জাকির হোসেন (গণফ্রন্ট), সৌমিত্র দত্ত (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো. আবুল হাসান (এনপিপি), মো. আমিনুল ইসলাম (বিকল্পধারা), মাহমুদুল হাসান খেলাফত আন্দোলন) ও মো. মনির হোসেন (মুক্তিজোট)।
শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট) নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২২৩ নং আসন। এ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একজন তার মনোনয়র প্রত্যাহার করায় এখন প্রার্থী মোট ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামীলীগ মনোনীত নাহিম রাজ্জাক (নৌকা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান (লাঙ্গল), জিয়াউর রহমান (জাকের পার্টি) ও মাহদী হাসান (ইসলামী ঐক্যজোট)।
শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এর সাথে যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর পুত্র ডাঃ খালেদ শওকত আলীর ঈগল প্রতিক থাকায় ভোটের মাঠ সরগম ছিলো। প্রচার প্রচারণা জমজমাট থাকায় এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুর্ন নির্বাচনের আভাস মিলেছে। তবে নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন বলেন, নড়িয়া আওয়ামী লীগের ঘাটি, তার পরে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপি বিগত ৫ বছরে যে উন্নয়ন করেছে তাতে নড়িয়াবাসী তাদের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নৌকাকে বিজয়ী করে এ আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে উপহার দিবে।
সখিপুর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এঁর উন্নয়ন সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে তার মনোনীত প্রার্থী পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপিকে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী করে আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাবো। আল্লাহর রহমতে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবে।
শরীয়তপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপু এমপির বিজয় নিশ্চিত থাকার পরেও তিনি দিন রাত জনসংযোগ করেছেন। দলের বিভেদ বিভক্তির অবসান করে সবাইকে নির্বাচনের মাঠে নিয়ে কাজ করেছে।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, ইকবাল হোসেন অপু এমপি বিগত ৫ বছরে উন্নয়নের পাশাপাশি, দলকে সুসংগঠিত করা, পালং-জাজিরার মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপনে আগ্রনী ভূমিকার কারণে তিনি জনপ্রিয় নেতা। তাই তার বিজয় নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।
জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌকিদার বলেন, জাজিরার মাটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘাটি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘাটি। আর আমাদের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু একজন সাদা মনের সহজ সরল মানুষ। তাকে আমরা নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাতে অপেক্ষায় আছি।
শরীয়তপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক এমপি চতুর্থ বারের মতো বিজয়ের দুয়ারে। নিজ আসনে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা এ প্রাথী বিজয়ের বিষয়টি সুনিশ্চিত থাকার পরেও ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে নেতা-কর্মীদের মাতিয়ে রেখেছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার প্রয়াত জাতীয় বীর আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাকের উনয়নের ধারা বজায় রেখে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। প্রতিটি নেতাকর্মীদের চিনেন এমনকি নাম ও জানেন।
শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীলীগের এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঘাটি। তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের নৌকার বিজয় নিশ্চিত। পদ্মা সেতু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য নৌকার বিজয় নিশ্চিত।