সারা দেশের ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্প ও ৪৩০টি ছোট নদী, খাল ও জলাশয় এর সাথে শরীয়তপুর জেলা নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বেড়িবাঁধ ‘জয়বাংলা এভিনিউ’ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে জেলেরা তাঁদের নৌকা নিয়ে নড়িয়ার মুলফৎগঞ্জ ঘাটে আসেন। সাড়ে ৩০০টি নৌকা নড়িয়ার নদী রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে নোঙর করে রাখা হয়। বিভিন্ন রঙের বেলুন, জাতীয় পতাকা, আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে নৌকাগুলো সাজানো হয়।
নড়িয়া প্রান্তে যুক্ত ছিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নড়িয়া ও জাজিরা অতিত ও বর্তমান উন্নয়নের বিষয় জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নড়িয়া গিয়েছিলাম ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে, এখন চরের মাঝে বিদ্যুতের বাতি জ্বলে। নদী ভাঙ্গন বন্ধ হয়েছে এ জন্য তিনি এ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় শরীয়তপুর-২ আসনের সাংসদ ও পানিসস্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সারা দেশের ৮০ টি উন্নয়ন প্রকল্প ও ৪৩০টি ছোট নদী, খাল ও জলাশয় এর উদ্বোধন আয়োজনে নড়িয়াকে যুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শরীয়তপুরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার এ সংযুক্তির অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে উদযাপনের জন্য নড়িয়া উপজেলার সাড়ে ৩শ জেলে তাঁদের নৌকা গুলোকে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে পদ্মায় নদীতে নৌ-র্যালি করে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, ৪ বছর আগেও নড়িয়ায় নদীভাঙন ছিল। হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আপনার বদৌলতে এখন আর নড়িয়ায় নদী ভাঙন নেই। ভাঙন কবলিত নড়িয়ায় এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ৫০ বছরের ভাঙন রোধ হয়েছে বাঁধের কারণে। বাঁধ নির্মাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী এটা হয়েছে সরাসরি আপনার তত্ত্বাবধানে। এ জন্য নড়িয়ার মানুষ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
এ সময় উপমন্ত্রী নড়িয়া,সখিপুর, জাজিরাসহ জেলার উন্নয়নের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে নড়িয়া উপজেলার চরাত্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ মুন্সী বলেন, আমরা নড়িয়ার হাজারো মানুষ পদ্মার ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নড়িয়ায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে নদীভাঙন থেমেছে। তাই তো তাঁর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমরা সাড়ে ৩০০টি নৌকা বর্ণিল সাজে সাজিয়ে এনেছি। দোয়া করি, তিনি যেন সুস্থ দেহে দীর্ঘজীবী হন।
নড়িয়ার চরআত্রার বাসিন্দা জেলে মজিবর সিকদার বলেন, বসতভিটা পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মাছ শিকার করি। আজ সন্তানদেরকে নিয়ে নৌকা সাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি।
নড়িয়ার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিহির চক্রবর্ত্তী বলেন, নড়িয়ার দুর্গম চরের চারদিকে নদী আমাদের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করেছিল। সেই উন্নয়ন বঞ্চিত চরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মার তলদেশ দিয়ে পৌঁছেছে বিদ্যুৎ। নদী ভাঙন রোধে নড়িয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে বাঁধ। এসব উন্নয়ন কাজের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ভাইর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাই তো সাধারণ মানুষ বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।