উদ্বোধনের ২ বছর না পেরুতেই নিচের মাটি সরে গিয়ে ধ্বসে পরার আশংকা দেখা দিয়েছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন ভবনে। ফলে আতংকের মাঝে দিনাতিপাত করছে অগ্নিকান্ডসহ বিভিন্ন দূর্যোগে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসা এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মীরা।
দুবছর আগে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয় দ্বিতল বিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। যার উদ্বোধন করার পর থেকেই ভবন নির্মাণের ত্রুটি ধরা পরে। ভবনটির নিচ থেকে মাটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে মাটি সরে গিয়ে ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে পরিকল্পনার দূর্বলতা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নজরদারি না থাকায় এমনটা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জি.এম আমির হোসেন বলেন, আমি ভবন উদ্বোধনের দিন থেকেই ভবন নির্মানের ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছি। এ বিষয়ে গণপুর্ত বিভাগ শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অসম্পুর্ণ কাজ সম্পন্ন এবং ত্রুটি সমূহ মেরামত করার বিষয়ে একাধিক ভাবে আবেদন দিয়েও কোন সুরাহা পাইনি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে সহায়তা চেয়েছি। ঠিকাদার দায়সারা কাজ করে তিনি চলে গেলেও এখন ভবনটি চরম ঝুকির মধ্যে পরেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। ভবনটির পশ্চিম পাশে একটি বিশেষ ভিমের বেসখানিকটা অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। আর ভবনটির চার পাশে দেওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ফায়ার সার্ভিস ভবনের পশ্চিম পাশের নিচে দেয়াল ভাটল ধরে নিচদিকে দেবে যাচ্ছে।
শরীয়তপুরের গণপুর্ত বিভাগের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী তিমির কুমার মন্ডল বলেন, ভবনটিতে মাটি সরে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গার মাটি দেয়া হয়েছে। ভবনটি তৈরি করার সময়ই বিষয়টি নিয়ে বিব্রত ছিলাম। তবে ঠিকাদার ঠিকাদারের মত কাজ করে তার জামানত নিয়ে গেছে। আমাদের ভূল হয়েছে কি কারণে মাটি সরে যায় সেই কারণটি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেনি। এখন বিষয়টি আমরা দ্রুত ঠিক করে দেওয়ার জন্য রবিবার লোক মালামাল পাঠাবো সেখানে। পুনরায় গণপূর্ত বিভাগ নতুন করে টেন্ডার করে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
শরীয়তপুর গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহিবুর রহমান বলেন, আমরা দুদিন হয় সেখানে কাজ করার জন্য মালামাল পাঠিয়ে দিয়েছি। আর মাটি সরে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। ঠিকাদার কাজ শেষ করে জামানতও নিয়ে গেছেন। এখন অফিসিয়ালি কি করা যায় তাই করা হবে।