শরীয়তপুর জেলা শহরের বনিক বাড়ির নিজস্ব মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। সোমবার রাতে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের নিরালা আবাসিক এলাকার শিতলা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
পালং মডেল থানা সূত্র জানা যায়, জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির পালং হরিসভার পাশে নিরালা আবাসিক এলাকায় বনিক বাড়ি। সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে শিতলা প্রতিমা ভাংচুর করে। মন্দিরের জিনিসপত্র তছনছ করে পূজা-অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কিছু কাশা-পিতলের তৈজসপত্র নিয়ে যায়। স্থানীয়রা ঘটনাটি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পালং মডেল থানা পুলিশকে জানায়।
পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন, শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাহাঙ্গীর বেপারী ঘটনাস্থল পরির্দশণ করেছেন।
বনিক বাড়ির রতন বনিক বলেন, প্রতিদিন সকালে আমার মা মন্দিরে পূজা দেয়। ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে দেখেন শিতলা প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, তিন-চার মাস আগে জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির পালং হরিসভার দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভির ফুটেজ পুলিশকে দেয়া হয়েছে। আমরা শিতলা মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরে ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবী করছি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিঘ্ন হওয়ার কিছু নেই। মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের সাথে জরিতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে রতন বনিক বাদী হয়ে কাউকে আসামী না করে পালং মডেল থানায় মামলা করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনা হবে।