আজ , , ,

দীর্ঘদিনেও ডাম্পিং স্টেশন না হওয়ায় ভেদরগঞ্জ পৌরবাসীর দুর্ভোগ

২৯ বছর পূর্বের প্রতিষ্ঠিত দেশের ক্ষুদ্রতম পৌরসভা তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নিত হলেও সেবার মান বাড়েনি।
দুই যুগ পেরিয়ে তিন দশকে পা দেয়া ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি কোনো পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থপনা নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। পৌর এলাকার প্রতিদিনের গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্য এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গুলোর ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত উপজেলা হৃদপিন্ড খ্যাত একমাত্র খালে। যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন পৌরবাসী। প্রায় ২ দশমিক ২৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌর এলাকায় বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। অথচ দীর্ঘ ২৯ বছরেও এখানে আবর্জনা সংগ্রহ, অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো গড়ে ওঠেনি। পৌরসভার নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র না থাকায় শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে, গুরুত্বপূর্ণ বাজার, ক্লিনিক ও হাসপাতালের আশপাশে খোলা জায়গায় ময়লার স্তপ জমে থাকে। এসব বর্জ্য থেকে ছরানো দুগন্ধের পাশাপাশি জন্ম নিচ্ছে মশা-মাছি ও রোগজীবাণু।
পৌরসভার ব্যবসায়ী নুরে আলম বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ময়লা সংগ্রহের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ভেদরগঞ্জ বন্দরে প্রতিদিন কয়েক টন পচনশীল বর্জ্য উৎপন্ন হলেও তা পরিশোধন ব্যবস্থাপনা না থাকায় তা সরাসরি উপজেলা পরিষদের সামনের খালে ফেলা হচ্ছে। আশংকার বিষয় হচ্ছে উপজেলা সদরের হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্যও একইভাবে খালে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমীন বলেন, ভেদরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন প্রবাহমান খালটি উপজেলার হৃদপিন্ড বা জলাধার বলা হতো। যা বর্তমানে দখল আর দুষনে এখন মৃতপ্রায়। নাব্যতা হারিয়ে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। আর পানির দুর্গন্ধের জন্য চলাচল হয়ে উঠেছে কষ্ঠসাধ্য।
পৌরসভার বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাড়ি ও সড়কের পাশে, খালের ধারে ময়লা স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। আবার শহরের ভেতর খোলা জায়গায় ময়লা আবর্জনা জড়ো করে আগুন দেয়া হয়। এতে চারপাশে বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ, সৃষ্টির পাশাপশি অগ্নিকান্ডের আশংকা বাড়ায়। সেই সাথে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
ভেদরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের পাশেই যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে অনেক সময় ক্রেতারা দোকানে দাঁড়াতে পারেনা। আমরা অনেক বার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা।
ভেদরগঞ্জ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা আলম চান বলেন, এ পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণের জন্য ১০ জন দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মী কাজ করে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বিভিন্ন বাসা বাড়ি থেকে ময়লা আর্বজনা এনে সুবিধা জনক স্থানে ফেলতে হয়। এতে করে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থায় নাগরীকদের কাঙ্খিত সেবা প্রদান কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন হলে এ সমস্যা কেটে যাবে।
ভেদরগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এম রাফসান রাব্বি বলেন, ভেদরগঞ্জ পৌরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা। এ ব্যাপারে আমরা বহুদুর এগিয়ে এসেছি। ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা গেলে পৌর শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। আর খাল দুষণের বিষয়টি মাথায় নিয়ে আমরা ভেদরগঞ্জ পৌর শহরকে আবর্জনা মুক্ত করার জন্য প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যা আজ থেকে বাস্তবায়িত হবে। আমরা প্রথমে পৌরসভার নাগরিকদের নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে সচেতন করবো। তারা এবিষয়ে আন্তরিক না হলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card


২৬ আগস্ট ২০২৬

কিস্তি ক্রেতাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষায় ওয়ালটন প্লাজার ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা কার্ড’

www.hongkar.com |
dailyhongkar