একচেটিয়া আধিপত্য ও সিন্ডিকেট ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ভাংতে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শ অনুমোদনের পর গত ১৩ নভেম্বর এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই নীতিমালা ১৬ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত খুচরা ডিলার বা বিক্রেতারা তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চালিয়ে যেতে পারবে।
এই সংবাদে প্রতিবাদ জানিয়ে শরীয়তপুরে স্থানীয় সিন্ডিকেটকারী ও সারের কৃত্তিম সংকট সৃষ্টিকারী খুচরা বিক্রেতারা ৩০ নভেম্বর রোববার দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন পরবর্তী সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পরে জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রেরণ করেছন।
মানববন্ধন থেকে গোসাইরহাট উপজেলা সার বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিনে তারা কৃষকের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ করে আসছে। তারা কোন দুর্নীতি বা অনিয়ম করে না। মানববন্ধনকারীরা দাবী করেছে যত অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প প্রতিষ্ঠান (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ডিলার। এই ডিলাররা খুচরা ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ি সার দেয় না। এক উপজেলার সার তারা অন্য উপজেলায় বিক্রি করে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশী মূল্যে ডিলারদের কাছ থেকে খুচরা ডিলারদের সার সংগ্রহ করতে হয়। তাই তারা লাভবান হয় না।
তারা আরো বলেন, সার বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকের কাছে প্রতি ডিলারের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাকি পড়েছে। সরকার যদি তাদের খুচরা ডিলারশীপ বাতিল করেন তাহলে তাদের পথে বসতে হবে। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তণ করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।
প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা জানায়, খুচরা ডিলাররা সব সময় সারের কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করে রাখে। একজন খুচরা ডিলার প্রতি কেজি সারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশী মূল্য ধার্য্য করে কৃষকের কাছে সার বিক্রি করে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে। এই সিন্ডিকেট ভাংতে সরকার উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
পালং বাজারে আলম ট্রেডার্স নামে বিসিআইসি সার ডিলারের সাথে কথা হয়। সে জানায়, কৃষি অফিসের চাহিদা অনুযায়ী ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে তারা সার সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ৫০ শতাংশ সার খুচরা ডিলারদের দিয়ে অবশিষ্ট সার তারা বিক্রি করে। তারা খুচরা ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে না।
এই বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় শরীয়তপুরে কৃষি জমি বৃদ্ধি পায়নি। গত বছর যে পরিমান সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই বছরও বরাদ্দ একই রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এই সিন্ডিকেট ভাংতেই কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরী করেছে।